অনলাইন ডেস্ক:
বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের সাবেক ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। ২০২০ সালের এই মৃত্যুর ঘটনায় মুম্বাই হাইকোর্টের নির্দেশের পর সিবিআই এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।
দিশার বাবা সতীশ সালিয়ান তার অভিযোগে তৎকালীন পুলিশি তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআরে ধর্ষণ, গণধর্ষণ ও হত্যার মতো অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তবে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, এফআইআর-এ কারও নাম বা অভিযোগ থাকা মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। তদন্তে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গেলেই কাউকে অভিযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা যাবে।
২০২০ সালের ৮ জুন দিশা সালিয়ান মুম্বাইয়ের মালাড এলাকার একটি আবাসিক ভবন থেকে পড়ে মারা যান। তার বয়স ছিল ২৮ বছর। প্রাথমিক তদন্তে মুম্বাই পুলিশ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখেছিল এবং পরে তদন্তে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানিয়ে মামলাটি বন্ধ করে দেয়।
তবে দিশার বাবা শুরু থেকেই মেয়ের মৃত্যুর обстоятельা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছিলেন। ২০২৫ সালে তিনি মুম্বাই হাইকোর্টে আবেদন করে তদন্তে গাফিলতি ও বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ তুলে নতুন করে তদন্তের দাবি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আগের তদন্তের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।
আদালত তদন্তের বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত অসঙ্গতি নিয়েও প্রশ্ন তোলে। এর মধ্যে ঘটনাস্থলের পঞ্চনামা করতে দেরি, কিছু আলামত জব্দে বিলম্ব এবং এফআইআর ছাড়াই তদন্ত পরিচালনার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়।
সিবিআইয়ের কাছে দেওয়া অভিযোগে সতীশ সালিয়ান দাবি করেছেন, তার মেয়ে এমন কিছু তথ্যের বিষয়ে অবগত ছিলেন, যার সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, এসব তথ্য প্রকাশ ঠেকাতেই দিশাকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয় এবং পরে প্রমাণ নষ্ট করা হয়। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং আদালত বা তদন্তকারী সংস্থা এগুলোকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে ঘোষণা করেনি।
দিশার মৃত্যুর ছয় দিন পর সুশান্ত সিং রাজপুতকেও মুম্বাইয়ের বান্দ্রার বাসায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। দুই ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা দাবি ও জল্পনা থাকলেও মুম্বাই পুলিশের তদন্তে দিশার মৃত্যুর সঙ্গে সুশান্তের মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে নতুন তদন্তকে স্বাগত জানিয়েছেন দিশার বাবা। তিনি মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং সুবিচারের দাবি জানিয়েছেন। সিবিআই এখন আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দিশার মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব দিক খতিয়ে দেখবে। তদন্তে কোনো অপরাধ সংঘটিত না হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী আদালতে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশও রয়েছে।