সৌদি-ইয়েমেন উত্তেজনা নিরসনে সংলাপের আহ্বান ইরানের, লাভবান হবে ইসরায়েল: তেহরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে ইরান। তেহরানের মতে, এ অঞ্চলে সংঘাত অব্যাহত থাকলে এর সুবিধা পাবে ইসরায়েল। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে সহায়তা করার প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, আরব উপদ্বীপের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে তেহরান গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ সহজতর করতে ইরান প্রস্তুত রয়েছে।

বাঘাই বলেন, উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে তাতে কেবল ইসরায়েল লাভবান হবে। দুটি মুসলিম দেশের মধ্যে শত্রুতা চলতে থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো অঞ্চল আগে থেকেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে।

ইয়েমেনের জনগণের দুর্ভোগের প্রসঙ্গ তুলে ইরানের এই মুখপাত্র বলেন, দেশটির মানুষের মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার পাশাপাশি চাপ, নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ থেকে মুক্ত থাকার অধিকার রয়েছে। গত ১০ থেকে ১২ বছরে ইয়েমেনের জনগণ যে দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে গেছে, ইসলামের নীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতেও তা ন্যায্যতা পেতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সৌদি আরবকে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান

ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবকে রাজনৈতিক সমাধানের পথে এগোনোর আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

রোববার (১১ অক্টোবর) সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সল বিন ফারহানের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে তিনি এ আহ্বান জানান। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর বিভিন্ন বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার পর আঞ্চলিক সহিংসতা বৃদ্ধি নিয়ে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনা হয়।

আলোচনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, সামরিক পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাজনৈতিক সমাধান উপেক্ষা করা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। তাঁর মতে, এ অঞ্চলের সংকটগুলোর সামরিক সমাধান নেই।

তিনি আরও জানান, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে সংলাপ শুরু এবং রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে ইরান প্রস্তুত রয়েছে।

ইরান-সৌদি সম্পর্কের প্রেক্ষাপট

দীর্ঘদিনের বৈরিতা সত্ত্বেও ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে বর্তমানে কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশ সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের চুক্তি করে। এর পর দুই দেশের দূতাবাস পুনরায় চালু হয়।

এর আগে সাত বছর ধরে দেশ দুটির মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন ছিল। ওই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাত ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সমর্থিত পক্ষগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর তেহরান ও রিয়াদের সম্পর্কে আরও অবনতি ঘটে। পাল্টাপাল্টি হামলায় ইরান ও তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরবের তেলক্ষেত্রও এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত মার্চে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সল সতর্ক করে বলেছিলেন, সৌদি আরব ও প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলা সহ্য করারও সীমা রয়েছে। সে সময় তিনি তেহরানকে নিজেদের কৌশল পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।

আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানের সর্বশেষ বক্তব্যে কূটনৈতিক সংলাপ ও রাজনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে এ আহ্বানের পর কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *