মোঃ মশিউর রহমান:
টাঙ্গাইলের সখীপুরে রাতের আঁধারে রাস্তার পাশে অসুস্থ স্বামীকে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী ও সন্তানদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত শনিবার রাতে স্ত্রী-সন্তানরা তাকে রাস্তার পাশে ফেলে যান। শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার কালমেঘা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জামাল উদ্দিন (৪৯) উপজেলার কালমেঘা গ্রামের ফজর আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর আগে তিনি নিজ গ্রাম ছেড়ে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাশবাড়ি দক্ষিণপাড়া, ইয়ার উদ্দিন মোড় এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। সেখানে প্রায় ১২ বছর কর্মরত ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রবাসজীবনে উপার্জিত লক্ষ লক্ষ টাকা তিনি স্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন।
কয়েক বছর আগে কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় আট মাস আগে দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফেরার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসা ও দেখভাল নিয়ে পরিবারে অবহেলার অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত শনিবার গভীর রাতে জামাল উদ্দিনকে তার পৈতৃক ভিটার পাশের সড়কে ফেলে রেখে যান তার স্ত্রী রিনা আক্তার ও সন্তানরা। পরে রাতে বৃষ্টি শুরু হলে তিনি মানবেতর অবস্থায় পড়েন। পরবর্তীতে কালমেঘা গ্রামের উত্তর-পূর্বপাড়ায় তার ভাতিজি ইসমতারার বাড়িতে তাকে আশ্রয় দেওয়া হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোশাররফ বলেন, বিষয়টি জানার পর স্থানীয়রা এগিয়ে এসে জামাল উদ্দিনকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন।
জামাল উদ্দিনের বড় ভাই সোহরাব আলী বলেন, “আমার ভাইকে আমি অনেক আগেই সাবধান করেছিলাম শ্বশুরবাড়িতে না যেতে। কিন্তু সে এলাকার কারও কথা শোনেনি। আজ শুনতে পেলাম, তার স্ত্রী অসুস্থ অবস্থায় তাকে রাস্তায় ফেলে চলে গেছে।”
অন্যদিকে, স্ত্রী রিনা আক্তার বলেন, “আমি কয়েক মাস আগে আমার স্বামীকে ডিভোর্স দিয়েছি। তার সঙ্গে এখন আর আমার কোনো সম্পর্ক নেই।” রাতের বেলায় জামাল উদ্দিন কীভাবে ওই এলাকায় পৌঁছালেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম বলেন, “ইতোমধ্যে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।”