স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার জিনসার হাজী বাড়ি এলাকায় এক নারীর সৎ পিতার নেতৃত্বে তার স্বামীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। গত ৪ মে দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী আয়েশা আক্তার (২৩), স্বামী মোঃ সুজন, বরুড়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড, জিনসার হাজী বাড়ির বাসিন্দা। তিনি বরুড়া থানায় দায়ের করা অভিযোগে জানান, তার সৎ পিতা মোঃ তারেক হোসেন (৩৫) ও তার সহযোগী হাসান (৩০) এবং মোঃ আবদুল মালেক (৬০) মিলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার স্বামীকে “কথা আছে” বলে রাতে ডেকে নিয়ে যান এবং এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা ভুক্তভোগীর স্বামীর নাক, মুখ, বুক ও পিঠে কিল, ঘুষি ও লাথি মারেন। এছাড়া ১নং আসামি হাতে স্টিলের এসএস পাইপ নিয়ে তার পিঠে, বাম হাতের শিনায় এবং দুই পায়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম হয়।
আয়েশা আক্তার জানান, স্বামীর চিৎকারে তিনি সহ আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে স্বামীকে আসামিদের কবল থেকে রক্ষা করেন। পরে সিএনজিযোগে তাকে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন।
আয়েশা আরও অভিযোগ করেন, হামলার পর আসামিরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তার স্বামীসহ তাদেরকে পুনরায় মারধর ও খুন করা হবে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, প্রধান আসামি তারেক হোসেনের মূল বাড়ি ঢাকায় হলেও তিনি বরুড়ায় অবস্থান করে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। ইতিপূর্বেও তিনি ভুক্তভোগীর স্বামীকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে ।
বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর দায়ের করা এই অভিযোগে সাক্ষী হিসেবে জখমী সুমন (২৪), হনুফা বেগম (৭০) ও মোঃ আবদুল হামিদ (৪৫)-সহ আরও অনেকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।