স্টাফ রিপোর্টার :-
মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের বিরুদ্ধে সাহসী কলম ধরেছিলেন তিনি। একের পর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে এলাকায় আলোচনায় এসেছিলেন। কিন্তু সত্য লেখার মাশুল দিতে হলো তাঁকে। অভিযোগ উঠেছে, ক্ষমতাধর আলমগীর মেম্বার সেই প্রতিশোধ নিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলায় সোমবার (২ জুন) কুমিল্লার আদালতে হাজির হয়ে জামিন লাভ করেছেন স্যাটেলাইট টেলিভিশন এশিয়ান টিভির স্টাফ রিপোর্টার এবং সাপ্তাহিক কুমিল্লা ক্রাইম বার্তা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মো. রেজা।
মামলার শুরু যেভাবে,
কুমিল্লার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলী আদালতে সাংবাদিক মো. রেজার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন আলমগীর মেম্বার। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব অর্পণ করেন জেলা গোয়েন্দা শাখার অর্থাৎ ডিবি পুলিশের ওপর।
তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আবদুস সালাম আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত সমন জারি করলে সোমবার মো. রেজা স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হন এবং জামিন লাভ করেন।
সাংবাদিকের অভিযোগ,
মো. রেজা সাংবাদিকদের কাছে স্পষ্টভাবে অভিযোগ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে আলমগীর মেম্বারের মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান সংক্রান্ত কার্যক্রমের বিরুদ্ধে একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন। সেই প্রতিবেদনগুলো প্রকাশের পরই তাঁর বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়।
তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রতিহিংসামূলক একটি মামলা। সত্য সংবাদ প্রকাশের কারণে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে। এই মামলার পেছনে ক্ষমতার অপব্যবহার স্পষ্ট।
মো. রেজা আরও অভিযোগ করেন, মামলার তদন্তে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়নি। এ বিষয়ে তিনি পুলিশের মহাপরিদর্শক অর্থাৎ আইজিপি বরাবর শিগগিরই লিখিত অভিযোগ দাখিল করবেন বলে জানিয়েছেন।
ডিবির বক্তব্য,
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তে যা পেয়েছেন তার ভিত্তিতেই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।
বাদীর বক্তব্য,
মামলার বাদী আলমগীর মেম্বার বলেন, তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি মামলা দায়ের করেছেন। তিনি স্বীকার করেন যে মো. রেজা আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। তবে মামলার বিস্তারিত বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করেননি।
সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ,
এই ঘটনায় কুমিল্লার সাংবাদিক মহলে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক নেতারা বলছেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে দমন করতে মিথ্যা মামলার আশ্রয় নেওয়া একটি ভয়ঙ্কর প্রবণতা। এভাবে সাংবাদিকদের হয়রানি করা হলে সত্য প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হবে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হবে।
তাঁরা দাবি জানিয়েছেন, এই মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে এবং যদি প্রমাণিত হয় যে মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তাহলে মামলার বাদীর বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
প্রেক্ষাপট,
বাংলাদেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে সাংবাদিকদের মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার পথ বেছে নিচ্ছেন বলে সাংবাদিক সংগঠনগুলো বারবার অভিযোগ করে আসছে। সাংবাদিক মো. রেজার এই ঘটনা সেই উদ্বেগজনক চিত্রেরই একটি নতুন সংযোজন।
মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এবং আইজিপি বরাবর অভিযোগ দাখিলের বিষয়ে এই পত্রিকা সার্বক্ষণিক নজর রাখছে।
সত্যের কলম থামানো যায় না। সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়।