কামুরল ইসলাম:
চট্টগ্রাম নগরের আকবর শাহ থানা এলাকায় চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চোরচক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে চোরাই স্বর্ণালংকার বিক্রির নগদ ১৫ লাখ ১১ হাজার ৮০০ টাকা, সাত ভরি স্বর্ণালংকার, দুটি স্যামসাং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও স্বর্ণ পরিমাপের নিক্তিসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সিএমপির আকবর শাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে ধারাবাহিক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, আকবর শাহ থানাধীন সিটি গেট এলাকার ব্যবসায়ী মো. আলমগীর মিয়া ‘বিসমিল্লাহ ফার্নিচার’ নামে একটি দোকান পরিচালনা করেন। গত ২৮ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটে তিনি স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ইপিক হাসপাতালে চিকিৎসকের কাছে যান। দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে প্রতিবেশীর স্ত্রী আরিফা বিনতে ইসলাম তাদের বাসায় এসে দেখতে পান, দরজার হুক কাটা এবং দরজা খোলা।
বিষয়টি মোবাইল ফোনে জানার পর আলমগীর মিয়া দ্রুত বাসায় ফিরে দেখেন, ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো এবং স্টিলের আলমারি খোলা। পরে খোঁজ নিয়ে তিনি দেখতে পান, আলমারিতে রাখা প্রায় ১০ ভরি ৪ আনা স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ২০ লাখ টাকা, নগদ ২ লাখ টাকা, ১২ হাজার ৫০০ সৌদি রিয়াল এবং একটি আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্স চুরি হয়েছে।
একই সময়ে তার প্রতিবেশী নুরুল ইসলামও দেখতে পান, তার বাসার দরজার হুক কাটা এবং আলমারির তালা ভাঙা। তার বাসা থেকেও নগদ ৬০ হাজার টাকা, এক ভরি ৮ আনা স্বর্ণালংকার এবং একটি স্যামসাং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় আলমগীর মিয়া বাদী হয়ে আকবর শাহ থানায় লিখিত এজাহার দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩১ জুলাই আকবর শাহ থানায় মামলা নম্বর-৩০, ধারা ৪৫৪/৩৮০ পেনাল কোডে মামলা করা হয়।
মামলা রুজুর পর সিএমপির পুলিশ কমিশনারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় আকবর শাহ থানার একটি আভিযানিক দল তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৬ আগস্ট ডবলমুরিং থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জসিম উদ্দিন ওরফে জসিম (৪৫) এবং মোস্তাকিন হোসেন মিঠু (৪৭)কে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৭ আগস্ট কোতোয়ালী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সেতু দাস ওরফে সালাউদ্দিন (৪৩), মোহাম্মদ আলী (৪৩) ও দেবব্রত বণিক ওরফে বলাই বণিক (৩৭)কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১০ আগস্ট ডবলমুরিং থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. ইসমাইল (৩৩)কে গ্রেপ্তার করা হয়। সর্বশেষ গত ১৯ আগস্ট চক্রটির আরেক সদস্য ফারজানা বেগম (৩৮)কে ডবলমুরিং থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আলীকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান থেকে একটি ড্রামের ভেতর চালের মধ্যে পলিথিনে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা স্বর্ণ বিক্রির নগদ ১৫ লাখ ১১ হাজার ৮০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ সময় স্বর্ণ পরিমাপের নিক্তি ও একটি স্যামসাং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।
পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কোতোয়ালী থানাধীন তাতীবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখান থেকে দুটি নেকলেস, তিনটি চেইন, এক জোড়া কানের দুল ও একটি আংটিসহ মোট সাত ভরি স্বর্ণালংকার এবং একটি স্যামসাং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্যমতে, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সেতু দাস ওরফে সালাউদ্দিন, জসিম উদ্দিন ওরফে জসিম এবং মোস্তাকিন হোসেন মিঠুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সেতু দাসের বিরুদ্ধে ছয়টি, জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ছয়টি এবং মোস্তাকিন হোসেন মিঠুর বিরুদ্ধে নয়টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ছাড়া মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে মাদক, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনের সাতটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে মোহাম্মদ আলী ও ফারজানা বেগম আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে তদন্তকারী কর্মকর্তারা দাবি করেছেন।
চুরি হওয়া অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অজ্ঞাতনামা চোর ও চোরচক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আকবর শাহ থানা পুলিশ।