কামরুল ইসলাম:
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা জুড়ে এখন বইছে নির্বাচন-উত্তাপের হাওয়া। আর মাত্র কয়েক মাস পরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা, গণসংযোগ, অভ্যন্তরীণ সমীকরণ আর তৃণমূল পর্যায়ে হিসাব-নিকাশ। এই প্রেক্ষাপটে মাঠ পর্যায়ে একটি জরিপ পরিচালনা করেন দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, সাংবাদিক কলামিস্ট ও সাংবাদিক পরিবারের কেন্দ্রীয় মহাসচিব কামরুল ইসলাম।
লোহাগাড়া উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ঘুরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, যুবসমাজ এবং সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়—আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে অন্তত ১০ থেকে ১২ জন সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে নামতে পারেন। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা দীর্ঘ হলেও জনমতের বিচারে সবার আগে যার নাম ঘুরে-ফিরে এসেছে, তিনি হলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির প্রভাবশালী সদস্য ও পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জনাব সাতজাতুর রহমান চৌধুরী (সাতজাত)।
তিনি লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমানের ভাগিনা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং ব্যক্তিগত সততার কারণে তিনি ইতোমধ্যেই এক আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভাষ্য—দলীয় দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা, আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো—এই তিনটি বিষয়ই তাকে অন্যদের থেকে এগিয়ে রেখেছে।
মাঠ জরিপে অংশ নেওয়া একাধিক নেতাকর্মী জানান, “সাতজাত ভাই শুধু রাজনীতি করেন না, মানুষের বিপদে-আপদে আগে এগিয়ে যান। কারও চিকিৎসা লাগলে, কারও মেয়ের বিয়ে, কারও আইনি জটিলতা—সবখানেই তাকে পাশে পাওয়া যায়।” তাদের মতে, দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছরের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম বা সুবিধাবাদিতার কোনো অভিযোগ ওঠেনি। “চাইলেই তিনি কোটি টাকার মালিক হতে পারতেন, কিন্তু রাজনীতিকে কখনও ব্যবসা বানাননি”—এমন মন্তব্যও শোনা গেছে বেশ কয়েকজন প্রবীণ কর্মীর কাছ থেকে।
স্থানীয় এক শিক্ষক বলেন, “বর্তমান সময়ে রাজনীতিতে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির মানুষ খুব কম। সাতজাত মিয়া সেই বিরল ব্যতিক্রমদের একজন। তাকে নির্বাচিত করা গেলে লোহাগাড়ায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হবে।” যুবসমাজের অনেকেই মনে করেন, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত উপজেলা গঠনে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার মতো নেতৃত্ব প্রয়োজন, আর সে ক্ষেত্রে সাতজাতুর রহমান একটি গ্রহণযোগ্য নাম।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় সমীকরণ, পারিবারিক ঐতিহ্য, সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক এবং ব্যক্তিগত ইমেজ—এই চারটি উপাদান মিলিয়ে সাতজাত বর্তমানে আলোচনার শীর্ষে। বিশেষ করে তৃণমূলভিত্তিক রাজনীতিতে তার গ্রহণযোগ্যতা ভবিষ্যৎ নির্বাচনী লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি, তবে জনমতের সূচকে তিনি যে এগিয়ে আছেন—তা অস্বীকার করার সুযোগ কম।
এ বিষয়ে সাতজাতুর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি বিনয়ী সুরে বলেন, “আমি উপজেলা নির্বাচনের বিষয়ে কাউকে কিছু বলিনি, এমনকি ব্যক্তিগতভাবে এখনো কোনো সিদ্ধান্তও নেইনি। সাধারণ মানুষ ও বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীরা আমাকে ভালোবাসেন বলেই হয়তো তারা প্রস্তাব দেন। তবে নির্বাচন নিয়ে এখনই কিছু বলার সময় আসেনি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি শহীদ রাষ্ট্রপতি Ziaur Rahman-এর আদর্শে বিশ্বাসী। সেই আদর্শকে বুকে ধারণ করে এবং দেশনেত্রী Khaleda Zia-এর রাজনৈতিক দর্শন অনুসরণ করে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমানে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman-এর হাতকে শক্তিশালী করতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে-ময়দানে সক্রিয় আছি। দেশ ও দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কাজ করাই এখন আমার মূল লক্ষ্য।”
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “নির্বাচন করতেই হবে—এমন কোনো চিন্তা-ভাবনা আমার মধ্যে নেই। দল যদি কখনো দায়িত্ব দেয়, তখন অবশ্যই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপাতত মানুষের পাশে থাকা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়াই আমার অঙ্গীকার।” পরিশেষে তিনি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের দোয়া ও ভালোবাসা কামনা করেন।
এদিকে লোহাগাড়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন নানা হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ নীরবে গণসংযোগ বাড়াচ্ছেন, কেউবা সাংগঠনিক বৈঠক জোরদার করছেন। তবে মাঠ জরিপ বলছে—জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির বিচারে সাতজাতুর রহমান চৌধুরী বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।
আগামী দিনে দলীয় মনোনয়ন, জোটগত সমীকরণ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতা কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপরই নির্ভর করবে চূড়ান্ত প্রার্থিতা। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে, আর সেই উত্তাপের কেন্দ্রে এখন একটি নাম—সাতজাত।