আড়াইহাজারে পৌরসভার নির্দেশ উপেক্ষা, নোটিশ অমান্য করেই চলছে ভবন নির্মাণ

মনিরুল ইসলাম:

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী পৌরসভা এলাকার পৌরসভা ভূমি অফিসের পিছনে। পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনের একাধিক নোটিশ উপেক্ষা করে বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ভবন নির্মাণে অনিয়ম, অতিরিক্ত তলা নির্মাণ ও ভবন বিধিমালা লঙ্ঘনের বিষয়টি নিয়ে তথ্য সংগ্রহে গেলে, সাংবাদিকদের সঙ্গেও অসদাচরণ করেন মালিকপক্ষের লোকজন।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগপত্রে জানা যায়, গোপালদী বাজার সংলগ্ন এলাকায় শাহাজালাল নামে এক ব্যক্তি অনুমোদনের বাইরে গিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। অভিযোগ ওঠে, ভবন নির্মাণে জাতীয় ভবন নির্মাণ বিধিমালা (BNBC 2020) অনুসরণ করা হয়নি এবং যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই কাজ পরিচালিত হচ্ছে।

এ ঘটনায় সাবেক এমপি আউয়াল এর স্ত্রী জেলা প্রশাষক বরাবর অভিযোগের পর গোপালদী পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ভবনটির নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে লিখিত নোটিশ প্রদান করে। নোটিশে অতিরিক্ত নির্মিত অংশ নিজ খরচে অপসারণেরও নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে ভবনটির নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রথম অভিযোগের সময় ভবনটি একতলা পর্যায়ে থাকলেও বর্তমানে সেটি সাততলা পর্যন্ত উঠে গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন ভবনে শ্রমিকদের কাজ করতে দেখা গেছে। এ সময় তথ্য সংগ্রহে গেলে মালিকপক্ষের কয়েকজন লোক উত্তেজিত আচরণ করেন এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে উল্টো চাঁদাদাবির অভিযোগ তোলেন। এতে ঘটনাস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে গোপালদী পৌরসভা প্রকৌশলী অরুন মোল্লা বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পৌরসভার পক্ষ থেকে কাজ বন্ধ রাখার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত নির্মাণ অংশ ভেঙে ফেলারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে অবগত করা হয়েছে।

এদিকে আড়াইহাজার উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি, মোস্তাফিজুর রহমান ইমন বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে মালিকপক্ষকে অবিলম্বে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্মাণকাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম জব্দের জন্যও পৌরসভাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রশাসনের একাধিক নির্দেশনা ও নোটিশের পরও কীভাবে প্রকাশ্যে নির্মাণকাজ চলতে থাকে। তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *