মোঃআনজার শাহ
কুমিল্লার বরুড়া বাজারের দীর্ঘদিনের যানজট, বিশৃঙ্খলা ও সড়ক দখলমুক্ত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বরুড়া পৌরসভা। বাজারের সার্বিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পৌর কর্তৃপক্ষ জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এতে সড়ক দখলমুক্ত রাখা, নির্ধারিত স্ট্যান্ডে যানবাহন দাঁড় করানো, অবৈধ স্থাপনা অপসারণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর নিয়ম মানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে আসাদুজ্জামান রনির সক্রিয় ভূমিকা বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।
পৌরসভার স্মারক নং-৩৬৭/১(৯) উল্লেখ করে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বাজারের সব ব্যবসায়ী, যানবাহনচালক, মালিক ও সাধারণ মানুষকে নতুন নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বাজারের কোনো দোকানের সামনের রাস্তার পাশে বর্ধিতাংশে নতুন করে কোনো সেড বা ছাপরা নির্মাণ করা যাবে না। ইতিমধ্যে নির্মিত এমন স্থাপনা দ্রুত অপসারণ করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, স্থায়ী দোকানের বাইরে কোনো মালামাল রাখা যাবে না। দোকানের বর্ধিতাংশ নিজ খরচে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরিয়ে ফেলতে হবে। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে চাঁদা তোলা এবং যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পৌরসভা।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, পৌরসভা নির্ধারিত স্ট্যান্ড ছাড়া সড়কের ওপর কোনো যানবাহন রাখা যাবে না। যাত্রী বা মালামাল ওঠানামার জন্য যত্রতত্র গাড়ি থামানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কুমিল্লা ও আড্ডা থেকে আসা বলাকা বাসের জন্য দুটি নির্দিষ্ট স্টপেজ নির্ধারণ করা হয়েছে—চান্দিনা রোড মোড়ের পশ্চিম পাশে এবং হাসপাতাল মোড়ে। এর বাইরে কোথাও যাত্রী ওঠানামা করা যাবে না।
সিএনজি ও অটোরিকশার জন্যও আলাদা স্ট্যান্ড নির্ধারণ করেছে পৌরসভা। ভাউকসার, পয়ালগাছা ও বিজরা রোডের গাড়িগুলো পুরাতন মাদ্রাসার দক্ষিণে, ব্রিজের দক্ষিণ পাশে অবস্থান করবে। আড্ডা কলেজ রোড হয়ে আসা গাড়িগুলো মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সামনে দিয়ে কলেজ রোড বরাবর দাঁড়াবে। ঝলম রোড থেকে আসা গাড়িগুলো চান্দিনা রোড মোড়ের পশ্চিম পাশে এবং হরিপুর-চান্দিনা রোড মোড়ের উত্তর পাশে থাকবে। বাতাইছড়ি বাজার থেকে আসা গাড়িগুলো সরকারি হাসপাতাল মোড় বরাবর অবস্থান করবে।
বাজারে যানজট নিয়ন্ত্রণে সব মালবাহী ট্রাক রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টার মধ্যে প্রবেশ করতে পারবে। এ ছাড়া দোকানদারদের দোকানের সামনে পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্যের জন্য আলাদা দুটি ঝুড়ি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাস্তায় বা যত্রতত্র ময়লা ফেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, আর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত আবর্জনা সংগ্রহ করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাজারের যানজট নিরসন ও সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং নিয়মিত বাজার মনিটরিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এ নির্দেশনার অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), অফিসার ইনচার্জ, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা, বাজার পরিদর্শক, বরুড়া বাজার ব্যবসায়ী কমিটি এবং যানবাহন মালিক-চালক কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
বাজার পরিদর্শককে মাইকযোগে পৌর এলাকায় ব্যাপক প্রচারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পৌরসভার এই কঠোর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বরুড়া বাজারের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা দূর হবে এবং ব্যবসায়ী, যাত্রী ও সাধারণ মানুষের জন্য একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও শৃঙ্খলাবদ্ধ বাজার পরিবেশ তৈরি হবে।