নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থরক্ষায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে।
তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসী সংগঠনের দেশবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রের বিষদাঁত ভেঙে দিতে হবে।’
বুধবার কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা সদরে আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র ও সহিংস তৎপরতার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মেঘনা উপজেলা বিএনপি এ বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে।
ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেন, ‘ফ্যাসিবাদীরা গায়ের জোরে ক্ষমতা আঁকড়ে থেকে গত ১৬ বছরে দেশের গণতন্ত্র, বাক্স্বাধীনতা ও অর্থনীতিসহ সব ক্ষেত্র ধ্বংস করে পালিয়ে গেছে। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এখন গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। জনগণ স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনার এটা সহ্য হচ্ছে না। তিনি বিদেশে বসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির ষড়যন্ত্র করছেন, হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। এটি অনভিপ্রেত ও দেশদ্রোহিতার শামিল।’
সমাবেশ শেষে ড. খন্দকার মারুফ হোসেনের নেতৃত্বে মেঘনা উপজেলা সদর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক মো. রমিজউদ্দিন লন্ডনীর সভাপতিত্বে মিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সদস্যসচিব এস. এম. সালাহউদ্দিন সরকার, যুগ্ম আহ্বায়ক এম. এম. মিজানুর রহমান, জয়নাল আবেদীন, ডা. আবদুল কাইয়ুম, প্রফেসর শহীদুল ইসলাম, আবদুল গাফফার, আবু ইউসুব নয়ন, দিলারা শিরীন, যুবদলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান ভূঁইয়া ও সদস্যসচিব আবদুল হান্নান প্রমুখ।
ড. খন্দকার মারুফ বলেন, ‘দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও সহিংস কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করা দেশপ্রেমিক প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। তাদের সহিংসতা ঠেকাতে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের বীর যোদ্ধার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা গত ১৬ বছর বিএনপির নেতাকর্মী এবং ভিন্নমত ও আদর্শের লোকদের গুম, অপহরণ ও হত্যা করেছে। মিথ্যা মামলায় আয়নাঘরে ও জেলে আটকে রেখে অগণিত মানুষের জীবন, সহায়-সম্পদ ও পরিবার বিপন্ন করেছে।’
আওয়ামী লীগের অতীত ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তাদের নেতা এমনিভাবে রক্ষীবাহিনী গঠন করে মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবাদী ভিন্নমত ও আদর্শের লোকদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে। একদলীয় বাকশালী শাসন চালিয়ে সরকার নিয়ন্ত্রিত চারটি পত্রিকা ছাড়া সব সংবাদপত্র বন্ধ, গণতন্ত্র হত্যা ও জনগণের বাক্স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে সব সংবাদপত্র মুক্ত করেন। বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন এবং বাক্স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন।’
ড. খন্দকার মারুফ হোসেন আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মধ্যে সামান্যতম দেশপ্রেম নেই। এটি একটি দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী সংগঠন।’
তিনি বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ এই দলটির নেতারা বিদেশে বসে মাতৃভূমিতে অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। কতটা বেঈমান ও নির্লজ্জ হলে এমন জঘন্য আত্মঘাতী কাজ করতে পারে।’
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করে ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যয় সংকোচন, সততা, বিনয় ও দায়িত্ববোধ এক ভিন্নমাত্রার রাজনৈতিক দর্শনে পরিণত হয়েছে। রাজনীতি ও দেশ পরিচালনায় তিনি নজিরবিহীন শিষ্টাচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে জনগণের দৃষ্টি কেড়েছেন। তারেক রহমানের মানবিকতা, মমত্ববোধ, দেশপ্রেম অসাধারণ। যাদের দেশ ও জনগণের প্রতি ভালোবাসা আছে, তারা এমন একজন নন্দিত সরকারপ্রধানের বিরুদ্ধে কটূক্তি করতে পারে না। যা দুর্ভাগ্যজনক।’
সবশেষে তিনি জনগণের জানমাল এবং শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও অশুভ তৎপরতা মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে থাকার জন্য তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।