আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে টানা ৯০ মিনিটের বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। একই সঙ্গে দেশটির বিভিন্ন বন্দরে পুনরায় নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়েছে। বুধবারের এ হামলায় ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে জ্বালানি রপ্তানি আবারও বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তেহরান।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বুধবার ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সর্বশেষ দফার হামলা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, টানা ৯০ মিনিটের অভিযানে বৃহত্তর তুনব দ্বীপের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ স্থাপনা লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ইরান যেসব সামরিক অবকাঠামো ব্যবহার করে, সেগুলো ধ্বংস করাই ছিল এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
তবে হামলার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও তাৎক্ষণিকভাবে এ হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে মঙ্গলবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, হরমুজ প্রণালির আশপাশ ও ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলের ডজনখানেক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে টানা সাত ঘণ্টা হামলা চালানো হয়েছে।
এর পাল্টা জবাবে বুধবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, গত সপ্তাহে ইরান সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় প্রায় এক ডজন নাবিক নিহত, আহত বা নিখোঁজ হয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকেই অঞ্চলজুড়ে সংঘাত নতুন মাত্রা পায়। এর জেরে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয় এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
এদিকে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। মঙ্গলবার এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার পর বুধবারও তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
যদিও গত মাসে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, তবে সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার কারণে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
সূত্র: রয়টার্স ও এএফপি