রুবেল হোসেন (কুমিল্লা):
পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের বার্তা নিয়ে কিশোর-কিশোরীদের হৃদয়ে গাছ লাগানোর অনুপ্রেরণা জাগিয়ে তুলল একটি মানবিক উদ্যোগ। বরুড়া মানবসেবা সামাজিক সংগঠনের আয়োজনে বৃহস্পতিবার বরুড়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ফলজ, বনজ ও ঔষধি প্রজাতির দুই শতাধিক বৃক্ষচারা।
কিশোর-কিশোরীদের মাঝে গাছ রোপণ ও পরিচর্যার বোধ জাগ্রত করা এবং ভবিষ্যতে সবুজ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে তাদের উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান রনি। তিনি বলেন, “একটি গাছ কেবল পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও সুস্থ পৃথিবী গড়ার অন্যতম হাতিয়ার। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর উচিত অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করে তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়া।” তিনি পরিবেশ সংরক্ষণে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে এ ধরনের উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
মানবসেবা সামাজিক সংগঠনের সভাপতি কাজী মুফতি মুহাম্মদ মমিন উল্যাহ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরুড়া উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. ফারুকুল ইসলাম, বরুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান জনি, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ওরাই আপনজন সামাজিক সংগঠনের সভাপতি মো. ইলিয়াস আহমদ, বরুড়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ আলী আকবর ফারূকি, উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান জাফরী, সাবেক প্রেসক্লাব সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম, বরুড়া রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. ইকরামুল হক, শিলমুড়ী উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য গাজী মুহম্মদ ওয়াহেদ আলী, শিলমুড়ী উত্তর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল বারী এবং সাংবাদিক মুহিবুল্যাহ ভূঁইয়া বাবুল। এ ছাড়া মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় নাগরিকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এই উদ্যোগকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বাগত জানান।
শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া চারার মধ্যে ছিল কাঁঠাল, আম, আমড়াসহ নানা প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ। আয়োজকরা জানান, প্রতিটি শিক্ষার্থীকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করে নিয়মিত পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের পরিবেশভিত্তিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশগত সচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধতার মনোভাব গড়ে তুলবে ছেলেমেয়ে উভয়ের মাঝেই। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মনে করেন, সরকারি ও বেসরকারি সংগঠনগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় এমন উদ্যোগ নিয়মিত হলে সবুজায়ন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা দ্রুত অর্জিত হবে।
আয়োজকরা জানান, পরিবেশ রক্ষা ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়বে জেলার অন্যান্য মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও। কর্মসূচির সমাপনী মুহূর্তে উপস্থিত সকলে প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে চারা তুলে দিয়ে গাছ রোপণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন যা যেন এক নতুন সবুজ ভবিষ্যতের অঙ্গীকারনামা হয়ে রইল।