স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীতে খোলা বাজারে খাদ্যশস্য বিক্রয় (ওএমএস) কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনকারী এক তদারককারীর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ডি-৯ এলাকার তদারককারী খোকন মন্ডল। স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্ব পালনের সময় নিয়মিতভাবে কয়েকজন ডিলারের কাছ থেকে টাকা নেওয়া এবং তদারকির পরিবর্তে ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকার ঘটনা ঘটছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, খোকন মন্ডল রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার গরাল এলাকার মো. আবুল কাসেম ও রহিমা খাতুনের সন্তান। বর্তমানে তিনি ঢাকায় ওএমএসের ডি-৯ এলাকায় তদারককারীর দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্বের অংশ হিসেবে প্রতিদিন দুটি ট্রাক সেল ও দুটি দোকান সেলের কার্যক্রম তদারক করার কথা রয়েছে তার।
ওএমএসের নিয়ম অনুযায়ী, ট্রাক ও দোকানে চাল-আটা বিক্রি শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট ডিলারের কাছে বরাদ্দকৃত মালামালের পরিমাণ ঠিক আছে কি না তা যাচাই করার কথা তদারককারীর। একইভাবে বিক্রয় শেষে অবশিষ্ট মালামাল ও বিক্রির হিসাবও যাচাই করার দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, খোকন মন্ডল অনেক সময় এসব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করে ডিলারদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে অন্যত্র চলে যান।
সরেজমিনে পাওয়া অভিযোগে জানা যায়, বিভিন্ন সময় সংশ্লিষ্ট ডিলারদের কাছ থেকে প্রায় ২ হাজার টাকা করে নেওয়ার পর খোকন মন্ডল তদারকির স্থান ত্যাগ করেন। এ সময় তিনি ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকেন এবং মোবাইল ফোনে দীর্ঘ সময় কথা বলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে ওএমএসের কার্যক্রমের প্রকৃত তদারকি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করে বলেন, খোকন মন্ডল একসময় সাধারণ পরিবারের সন্তান ছিলেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে তার আর্থিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, ঢাকাসহ নিজ জেলা রাজবাড়ীতেও খোকন মন্ডলের নামে-বেনামে সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে। তবে এসব সম্পদের উৎস সম্পর্কে কোনো স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিতে দায়িত্ব পালন করে একজন তদারককারীর বিরুদ্ধে যদি নিয়মিত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কেন যথাযথভাবে তদন্ত করছে না। তাদের মতে, ওএমএসের মতো দরিদ্র মানুষের জন্য নির্ধারিত কর্মসূচিতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ঘুষের অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি খোকন মন্ডলের তদারকির আওতায় থাকা বিক্রয়কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ছিল ডিলার মো. জহিরুল ইসলামের ট্রাক সেল পয়েন্ট হাজীক্যাম্প, আশকোনা এবং ডিলার পারুল আক্তারের ট্রাক সেল পয়েন্ট টিআইসি কলোনি, দক্ষিণখান, আজমপুর, ঢাকা। এছাড়া ডিলার মোছা. মাজেদা খাতুনের দোকান সেল পয়েন্ট ছিল উত্তরখানের কাঁচপুর এলাকায় হোল্ডিং নম্বর ৫৯/৩৬, বাওগান বাইতুন নূর জামে মসজিদের পূর্ব পাশে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বিক্রয়কেন্দ্রে তদারকির ক্ষেত্রে নিয়মিত নজরদারি না থাকলে ওএমএসের বরাদ্দকৃত চাল ও আটা সঠিকভাবে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানো নিয়ে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য নির্ধারিত ভর্তুকি মূল্যের খাদ্যপণ্য বিতরণে তদারককারীর দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে খোকন মন্ডলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য জানা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং তার বক্তব্য পাওয়ার পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ গ্রহণ ও সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট খাদ্য বিভাগের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, ওএমএস কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরিদর্শন, মালামালের হিসাব যাচাই এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।