কামরুল ইসলাম:
কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলী এলাকার একটি টমটম গ্যারেজ থেকে আবদুল হাকিম (৪০) নামের এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পাহাড়তলী এলাকার আনোয়ারের গ্যারেজ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, অটোরিকশা চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবদুল হাকিমকে গ্যারেজে আটকে রেখে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
নিহত আবদুল হাকিম কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ওসমান সরওয়ার টিপুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কিছুদিন আগে গ্যারেজের মালিক আনোয়ার হোসেনের কাছ থেকে নিজ জিম্মায় এক চালককে অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে দেন আবদুল হাকিম। পরে ওই চালক অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্যারেজ মালিক আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে আবদুল হাকিমের বিরোধের সৃষ্টি হয়।
ওসমান সরওয়ার টিপুর অভিযোগ, অটোরিকশা নিয়ে চালক পালিয়ে যাওয়ার পর গ্যারেজ মালিক আনোয়ার হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে আবদুল হাকিমকে গ্যারেজে আটকে রাখেন এবং তাঁর ওপর নির্যাতন চালান। একপর্যায়ে ওই গ্যারেজ থেকে আবদুল হাকিমের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য এবং তদন্তের ফলাফল এখনো জানা যায়নি।
এদিকে, আবদুল হাকিমের মৃত্যুর ঘটনাটি ঘিরে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অটোরিকশা ভাড়া নেওয়া ও চালকের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো বিরোধ থেকে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁর মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এবং তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তা বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছে পুলিশ।
আবদুল হাকিমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা। তবে অভিযোগের সত্যতা এবং মৃত্যুর পেছনের প্রকৃত ঘটনা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।