কলাতলীতে মসজিদের সামনে অবৈধ স্পা সেন্টার: এলাকাবাসীর ক্ষোভের মুখে রহস্যময় রাকিবুল

স্টাফ রিপোর্টার:

কক্সবাজার শহরের পর্যটন জোন কলাতলীর উত্তর হাসনাবাদ এলাকায় এক ভয়াবহ সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্র ফুটে উঠেছে। পর্যটন এলাকার বিকাশ বিল্ডিংয়ের পেছনে একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়, মসজিদের ঠিক সামনেই গড়ে তোলা হয়েছে একটি কথিত ‘স্পা সেন্টার’। আবাসিক এলাকায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ করে এ ধরনের অনৈতিক ব্যবসার প্রসারে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই অবৈধ কার্যক্রম চললেও নেপথ্যের কারিগররা রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলাতলীর এই স্পা সেন্টারটি মূলত একটি আবাসিক ভবনে গোপনে পরিচালিত হচ্ছে। এর অবস্থান মসজিদের একেবারে সন্নিকটে হওয়ায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দারা চরম বিব্রতবোধ করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মসজিদের মতো একটি পবিত্র স্থানের সামনে এ ধরনের ব্যবসা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের ছেলেমেয়েদের ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এখানে এখন পরিবার নিয়ে শান্তিতে বসবাস করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিনের চেয়ে রাতের বেলা এই কথিত স্পা সেন্টারে অপরিচিত ও সন্দেহভাজন লোকজনের আনাগোনা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, যা আমাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই স্পা সেন্টারের আড়ালে মূলত দীর্ঘ সময় ধরে অনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালিত হয়ে আসছে। পর্যটন নগরীর মোড়কে কলাতলীর বিভিন্ন অলিগলিতে এমন অনেক অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠলেও, আবাসিক এলাকার ভেতরে মসজিদের সামনে এমন ধৃষ্টতা এলাকাবাসীকে স্তম্ভিত করেছে। স্থানীয়দের দাবি, এই প্রতিষ্ঠানটির কোনো বৈধ লাইসেন্স বা অনুমোদন নেই। সম্পূর্ণ গায়ের জোরে এবং প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এটি পরিচালিত হচ্ছে।

পুরো বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে উঠে এসেছে জনৈক রাকিবুল নামের এক ব্যক্তির নাম। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, এই অবৈধ স্পা সেন্টারের মূল নিয়ন্ত্রক ও নেপথ্যের কারিগর এই রাকিবুল। তার প্রত্যক্ষ মদদ এবং প্রভাবের কারণেই স্থানীয়রা মুখ খুলতে সাহস পায় না। অভিযোগ রয়েছে, রাকিবুল তার নিজস্ব একটি চক্রের মাধ্যমে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। কোনো প্রতিবাদ উঠলেই তিনি বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রাকিবুলের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি, এমনকি তার কোনো বক্তব্যও নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বিস্ময়কর বিষয় হলো, বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী এর আগে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের এই নীরবতাকে রহস্যজনক মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এলাকার সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়তে পারে এবং যেকোনো সময় গ্রামবাসীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই অবৈধ স্পা সেন্টার বন্ধ করে দেওয়া হোক এবং এর নেপথ্যে থাকা রাকিবুলসহ সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হোক। পর্যটন নগরীর ভাবমূর্তি রক্ষা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা বজায় রাখতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কলাতলী উত্তর হাসনাবাদ এলাকার সর্বস্তরের জনগণ। তারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আইনিভাবে এই সমস্যার সমাধান না হলে তারা নিজেরাই বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *