কাঠালিয়ায় বিদ্যালয়ের ৯৫০ কেজি রড বিক্রির অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস

মোঃ ইমরান মুন্সি:

ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার ১ নম্বর পশ্চিম চেঁচরীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো প্রায় ৯৫০ কেজি রড বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে রড বিক্রির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শাহনাজ আক্তার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দুটি ভ্যানগাড়িতে করে পুরোনো রড নিয়ে যাচ্ছেন এক ভাঙারি ব্যবসায়ী। ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি রডগুলোর উৎস জানতে চাইলে ওই ব্যবসায়ী দাবি করেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা মিলে রডগুলো তাঁর কাছে বিক্রি করেছেন। তবে ভিডিওতে রডগুলো সুনির্দিষ্টভাবে কোন বিদ্যালয়ের, তা স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১ নম্বর পশ্চিম চেঁচরীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণকাজের অংশ হিসেবে পুরোনো সিঁড়িঘর ভাঙার সময় বিপুল পরিমাণ রড বের হয়, যা বিদ্যালয়েই সংরক্ষিত ছিল। তাঁদের দাবি, পূর্ববর্তী শিক্ষকের দায়িত্ব হস্তান্তরের তালিকায় (চার্জ লিস্ট) উল্লেখ থাকা ৬৫ কেজি রডের সঙ্গে এই ৯৫০ কেজি রডের কোনো সম্পর্ক নেই। তালিকাভুক্ত ৬৫ কেজি রড মূলত ঠিকাদারের রেখে যাওয়া অতিরিক্ত টুকরা রড ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শাহনাজ আক্তার যোগসাজশ করে ওই পুরোনো রডগুলো বিক্রি করে দিয়েছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা সিফাত জানান, রডগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে ভ্যানগাড়িতে তোলার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে রাতে কিছু রড এনে পুনরায় বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে রাখা হয়। সে সময়ও তিনি উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেন। তিনি আরও জানান, রড বিক্রির বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শাহনাজ আক্তার বলেন, ‘বিদ্যালয় থেকে কোনো রড বিক্রি করা হয়নি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ।’ তাঁর দাবি, বহিরাগত কিছু ছেলে রাতে অনধিকার প্রবেশ করে বিদ্যালয়ে আসত। তাদের প্রবেশের পথ বন্ধ করে দেওয়ার কারণেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

এ বিষয়ে কাঠালিয়া উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কিং ফয়সাল জানান, ‘গত ৭ অক্টোবর রড বিক্রির বিষয়টি জানতে পেরে ৮ অক্টোবর বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করি। ওই সময় বিদ্যালয়ের স্টোররুমে কিছু রড পাওয়া যায়। তবে দায়িত্ব হস্তান্তরের তালিকায় উল্লিখিত রড এবং বিক্রির অভিযোগ ওঠা রড এক নয়—এমন তথ্য নতুন করে সামনে এসেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পুনরায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *