কুড়িগ্রাম-০২ আসনে উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে জাতীয় পার্টির প্রার্থী পনির উদ্দিন

সিরাজুল ইসলাম:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-০২ আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ও জনসংযোগ কার্যক্রম চালাচ্ছেন। নির্বাচনী মাঠে প্রার্থীরা নিজ নিজ কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় কুড়িগ্রাম-০২ আসনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব পনির উদ্দিন আহমেদ জনসভা, গণসংযোগ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, কুড়িগ্রামে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে জাতীয় পার্টি সক্রিয় রয়েছে। তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও প্রচলিত নিয়ম-কানুন মেনেই তিনি ও তার সমর্থকেরা প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।

আলহাজ্ব পনির উদ্দিন বলেন, পূর্বে একবার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পেয়েছেন এবং সে সময় কুড়িগ্রাম জেলার উন্নয়নে কাজ করেছেন। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে জেলাকে দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নতশীল হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।

তিনি জানান, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, নারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং জেলার অবহেলিত অবকাঠামো উন্নয়ন তার অগ্রাধিকার। রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ পিছিয়ে পড়া এলাকার উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

মাঠ পর্যায়ের জনপ্রিয়তা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ ও সমাবেশ করেছেন এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন ভোটার তাদের মতামত তুলে ধরেছেন। কুড়িগ্রাম পৌরসভার মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা রানা আহমেদ বলেন, আলহাজ্ব পনির উদ্দিন এলাকার মানুষের সমস্যা সম্পর্কে অবগত এবং নির্বাচিত হলে উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার হবে বলে তিনি আশা করেন।

মাঝের চর এলাকার বাসিন্দা কয়সার আলী বলেন, চরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় ভুগছে। এসব এলাকার উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশা তাদের।

ভেলাকোপা এলাকার নারী ভোটার জরিনা খাতুন বলেন, নারীদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি গুরুত্ব পেলে এলাকার নারীরা উপকৃত হবেন।

তরুণ ভোটার নিলয় চৌধুরী বলেন, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হলে তারা নিজ এলাকায় থেকেই ভবিষ্যৎ গড়তে পারবে।

উল্লেখ্য, আর মাত্র দুই দিন পর শেষ হচ্ছে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। আগামী ১২ তারিখ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। শেষ পর্যন্ত কুড়িগ্রাম-০২ আসনের ভোটাররা কাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচন করবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *