মোশারফ হোসেন জসিম পাঠান:
নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলাধীন ৯ নং নওপাড়া ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামে মোছাঃ রিমা আক্তারের হত্যাকাণ্ডে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন তৎপর হলেও এখনও আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি। নিহত রিমা আক্তারের স্বামী মাশরাফ হোসেন জসিম পাঠানসহ অন্তত ৮ জনকে আসামি করে কেন্দ্রুয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার আগে থেকেই পারিবারিক কলহ ও পূর্ববর্তী নানা বিষয়ের কারণে তিক্ততা দেখা দিয়েছিল। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বুধবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে মেয়েটির বাসায় বেলড়িং ঘরের দরজা বন্ধ করে স্বামীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা যৌতুকের দাবিতে তাকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। এক পর্যায়ে মেয়েটি গুরুতর আহত হন। পরিবারের সদস্যরা রাতের বেলা মেয়েটিকে কেন্দুয়া হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের চিকিৎসক অবস্থা শোচনীয় দেখে তাকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রিমা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত দেহের মৃত্যুর খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তারা মৃতদেহের সোরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে মর্গে প্রেরণ করেন। ঘটনার সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় এবং আশেপাশের মানুষজন হতভম্ব হয়ে ওঠে। রিমা আক্তারের বাবা জাকির মিয়া মৃত দেহটি বাড়িতে এনে দাফন ও কফনের ব্যবস্থা সম্পন্ন করেন।
স্থানীয়রা সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের কাছে স্বীকার করেছেন যে, রিমা আক্তারের উপর দীর্ঘদিন ধরেই স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা যৌতুকের জন্য নিয়মিত নির্যাতন চালাচ্ছিল। এই বিষয়টি নিয়ে গ্রামের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার গ্রাম্য বৈঠক/শালিস বসিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু স্বামী ও তার পরিবারের কঠোর মনোভাবের কারণে সমস্যা সমাধান সম্ভব হয়নি।
রিমা আক্তারের বাবা জায়গীর হোসেন ওরফে জাকির বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা অনুসারে অভিযুক্তদের মধ্যে মাশরাফ হোসেন পায়েলসহ ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও আরও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন এবং জেলার পুলিশ সুপার ঘটনার তদারকি করছেন। তারা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারবর্গ ও সচেতন এলাকাবাসীও প্রশাসনের কাছে যথাযথ ব্যবস্থা কামনা করছেন।
এ ঘটনায় গ্রামের এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকার সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেছেন যে, দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের যৌতুক ও পারিবারিক নির্যাতন কার্যক্রম চলছিল। তাই এখন তারা আশা করছেন, সরকারী প্রশাসন দ্রুত এবং সুষ্ঠুভাবে এই হত্যাকাণ্ডের দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করবে।
ভুক্তভোগী পরিবারবর্গের ছবি এবং ঘটনাস্থলের প্রমাণাদি সাংবাদিকদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে। এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে এবং জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করছেন।