মোঃ আরাফাত হোসেন (বনি):
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)-এর ঢাকা ইউনিটের উদ্যোগে এবং সুইজারল্যান্ড, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহযোগিতায় ঢাকার কেরানীগঞ্জ গার্লস স্কুল এন্ড কলেজে আজ ১৩ অক্টোবর বিতর্ক, চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতা এবং “জানালা” নারী ও শিশু-কিশোরদের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা “বাল্যবিবাহ” বিষয়ের ওপর বিতর্কে অংশগ্রহণ করে। বিতর্কে বাল্যবিবাহের কুফল, সামাজিক প্রভাব এবং প্রতিরোধের উপায় নিয়ে শিক্ষার্থীরা যুক্তি উপস্থাপন করে। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল “সুখী পরিবার”। এছাড়া শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি কুইজ প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়। “জানালা” শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে নারী ও শিশু-কিশোররা তাদের দৈনন্দিন সমস্যা, নিরাপত্তা এবং অধিকার সচেতনতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করে।
আলোচনায় বয়ঃসন্ধিকালের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং এই সময়ে করণীয় বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। ব্লাস্টের প্রতিনিধিরা এ সময় আইনি সহায়তা পাওয়ার প্রক্রিয়া, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং বয়ঃসন্ধিকালে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে করণীয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্লাস্টের সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মো. মশিউর রহমান, জাতীয় কনসালটেন্ট মেসবাহ ইউ আহমেদ, ব্লাস্টের জুনিয়র স্টাফ ল’ইয়ার কামরুন্নাহার বিলকিস কনা, পদ্মকুঁড়ি হিজড়া সংঘের সাধারণ সম্পাদক মিতু হিজড়া, কেরানীগঞ্জ মডেল থানা বিএনপির সহ-সভাপতি ও উক্ত কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য মো. সাইদুর রহমান আংকু এবং কেরানীগঞ্জ গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সানজিদা জেসমিন হক। এছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা, বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
ব্লাস্টের সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মো. মশিউর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, “ব্লাস্ট অসহায় ও দরিদ্র মানুষের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠায় যেমন কাজ করে, তেমনি মানুষকে তাদের ন্যায্য অধিকার প্রাপ্তির বিষয়ে সচেতন করার জন্য বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই আয়োজন বয়ঃসন্ধিকালীন শিক্ষার্থীদের সচেতন করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে।”
জাতীয় কনসালটেন্ট মেসবাহ ইউ আহমেদ বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তন, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, আচরণগত পরিবর্তন এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালে সৃষ্ট বিভিন্ন পরিবর্তন, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার উপায় সম্পর্কে সহজ ও সাবলীলভাবে ধারণা প্রদান করেন। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হেল্পলাইনের সেবা, কার্যক্রম এবং প্রয়োজনে কীভাবে সেগুলোর সহায়তা নেওয়া যায় তা সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দেন। তাঁর প্রাণবন্ত, তথ্যবহুল ও সময়োপযোগী আলোচনা কিশোরীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। আলোচনায় অংশগ্রহণকারী কিশোরীরা অত্যন্ত মনোযোগের সঙ্গে বিষয়গুলো শোনে এবং সক্রিয়ভাবে মতামত, অভিজ্ঞতা ও প্রশ্ন উপস্থাপন করে। ফলে পুরো সেশনটি প্রাণবন্ত, অংশগ্রহণমূলক ও ফলপ্রসূ হয়ে ওঠে।
পদ্মকুঁড়ি হিজড়া সংঘের সাধারণ সম্পাদক মিতু হিজড়া বলেন, “সমাজের পিছিয়ে পড়া এই জনগোষ্ঠীর মানুষকে সহযোগিতার জন্য সমাজের সকল মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে দেশের শিক্ষার্থীদের ভূমিকা এখানে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তারা যদি এই জনগোষ্ঠীর পাশে থাকে, তবে তাদের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখা সম্ভব হবে।”
কেরানীগঞ্জ মডেল থানা বিএনপির সহ-সভাপতি ও উক্ত কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য মো. সাইদুর রহমান আংকু প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন। ব্লাস্টের এই আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সচেতনতার জন্য ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেরানীগঞ্জ গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সানজিদা জেসমিন হক।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।