কামরুল ইসলাম:
চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানা এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছিনতাইয়ের ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাই চক্রের অন্যতম এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মনির হোসেন (৩৮)। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ১টার দিকে নগরের বাকলিয়া থানা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, কোতোয়ালী থানাধীন পাথরঘাটার ১৬ নম্বর সতিশ বাবুর লেইনে মজিবুর রহমানের ছয়তলা ভবনের সামনে পাকা সড়কে এক অজ্ঞাতনামা অটোরিকশাযাত্রীকে গতিরোধ করে ছোরার ভয় দেখিয়ে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনাটি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। পরে ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ), সিএমপি, চট্টগ্রাম এবং অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ), সিএমপি, চট্টগ্রামের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং সহকারী কমিশনার, কোতোয়ালী জোনের তত্ত্বাবধানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জায়েদ নুরের নেতৃত্বে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে মনির হোসেনকে আটক করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারের পর মনির হোসেনকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশের দাবি। একই সঙ্গে তার সঙ্গে ঘটনায় জড়িত আরও দুই সহযোগীর নাম-ঠিকানা প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ওই দুই সহযোগী বর্তমানে পলাতক রয়েছে।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে মনির হোসেন জানিয়েছেন, তিনি এবং তার দুই সহযোগী পরস্পর যোগসাজশে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে কোতোয়ালী থানাধীন পাথরঘাটার ১৬ নম্বর সতিশ বাবুর লেইনে মজিবুর রহমানের ছয়তলা ভবনের সামনে আসেন। সেখানে তারা এক অজ্ঞাতনামা অটোরিকশাযাত্রীকে গতিরোধ করেন। পরে ছোরার ভয় দেখিয়ে ওই যাত্রীর কাছ থেকে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে চলে যান বলে পুলিশকে জানিয়েছেন গ্রেপ্তার মনির।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত পলাতক দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় মামলা করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, কোতোয়ালী থানার মামলা নম্বর ৩৮, তারিখ ২০/০৯/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩৯২ ধারায় করা হয়েছে।
মামলার পর গ্রেপ্তার মনির হোসেনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নগরীতে ছিনতাইসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভাইরাল হওয়া ছিনতাইয়ের ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।