মোঃ আনজার শাহ:
কুমিল্লায় বিকাশ লেনদেনকে কেন্দ্র করে ২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক ডিস্ট্রিবিউশন সেলস অফিসার (ডিএসও)-এর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ এলাকায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. ইব্রাহিম খলিল কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মো. ইব্রাহিম খলিল (২৮), পিতা আবদুল গফুর পাটোয়ারী, মাতা মমতাজ বেগম, গ্রাম হাটপুকুরিয়া পাটোয়ারী বাড়ি, ডাকঘর ভারুল, থানা বরুড়া, জেলা কুমিল্লা—মধ্যম আশ্রাফপুর সদর গাজী জামে মসজিদের সামনে গাউজিয়া স্টোরে একটি বিকাশ এজেন্ট পরিচালনা করেন। তার এজেন্ট নম্বর ০১৯০২৪৬৪০৩৭।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১১টা ২৪ মিনিটে তিনি নিয়মিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিকাশের ডিএসও মো. ইমরান হোসেন মাহমুদ (২৭)-কে তার এজেন্ট নম্বরে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা লোড দিতে বলেন। অভিযুক্ত ইমরান, পিতা জামাল উদ্দিন, মাতা বকুল বেগম, স্থায়ী ঠিকানা বিজয়পুর কাজীবাড়ী, থানা চৌদ্দগ্রাম, জেলা কুমিল্লা—বর্তমানে কোতোয়ালি থানাধীন এলাকায় বসবাস করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
বাদীর দাবি, ডিএসও লোড সম্পন্ন করলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ বুঝিয়ে দেন। অভিযুক্ত ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর কিছু সময়ের মধ্যে তিনি ব্যাংকে ২ লাখ টাকা স্থানান্তর করতে গিয়ে ভুলবশত ডিএসও’র ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ০১৮৯৪৪৪৯৬২৩-এ টাকা পাঠিয়ে ফেলেন। অভিযোগে বলা হয়, লেনদেনের সময় অভিযুক্ত ওই নম্বর ব্যবহার করতেন এবং একই নম্বর থেকে লোড দেওয়া হয়েছিল।
ইব্রাহিম খলিল জানান, তিনি তখন বিষয়টি খেয়াল করেননি। কয়েকদিন পর ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের সময় হিসাব মিলিয়ে ২ লাখ টাকার ঘাটতি ধরা পড়ে। পরে অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আরও বলেন, তিনি একজন ক্যান্সার রোগী। শারীরিক ও পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় অভিযোগ করতে পারেননি। পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে অবশেষে তিনি আইনগত সহায়তা চেয়ে থানায় লিখিত আবেদন করেন।
এ বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিজিটাল লেনদেনের এই সময়ে এমন ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সচেতন মহল বলছে, মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হলে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত সমাধান জরুরি।