স্টাফ রিপোর্টার:
দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (KCMCH) অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আইনি শর্ত পূরণে দীর্ঘদিন ধরে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে। নগরীর প্রাণকেন্দ্র কেডিএ এভিনিউয়ের ময়লাপোতা মোড়ে অবস্থিত এই হাসপাতালটি নিজেকে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক মাল্টি-স্পেশালিটি হাসপাতাল হিসেবে দাবি করলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে অভিযোগ রোগী ও সংশ্লিষ্ট মহলের।
স্থানীয় সূত্র ও রোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, হাসপাতালটির সামনে পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা না থাকায় প্রায়ই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে, যা অনেক সময় রোগীর জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়। এছাড়া জরুরি বিভাগ, আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার ও ওয়ার্ডসমূহে প্রয়োজনীয় জায়গা ও আধুনিক যন্ত্রপাতির ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
রোগীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত রোগী ভর্তি করায় অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আইসিইউ ও শয্যা সংকটের কারণে রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এতে চিকিৎসার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং রোগীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
অন্যদিকে, বেসরকারি হাসপাতালের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক নির্ধারিত লাইসেন্সিং শর্তাবলী যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে। ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক ও নার্সের উপস্থিতি এবং নির্ধারিত চিকিৎসক-নার্স অনুপাত—এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব শর্ত পূরণ না হলে রোগী ও কর্মীদের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, খুলনা অঞ্চলে বেসরকারি হাসপাতালের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও নিয়মিত পরিদর্শন ও লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদারকি দুর্বল। এর ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়ম বহির্ভূতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। খুলনা সিটি হাসপাতালের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই অনিয়ম আরও উদ্বেগজনক।
এই অনিয়মের কারণে সরকারি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর রোগীর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। অনেক রোগী বেসরকারি হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের কোনো স্পষ্ট বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তারা সকল সরকারি শর্ত ও নিয়ম মেনেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যদিও সচেতন মহল নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যদি নিয়মিত অভিযান, লাইসেন্স যাচাই, ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনে জরিমানা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তাহলে বেসরকারি হাসপাতাল খাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত ও প্রশাসনিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা হলে অনিয়ম অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।
রোগীদের নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কঠোর নজরদারি এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।