মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকার প্রধান কার্যালয়ে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা, নির্যাতন ও নিপীড়নের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে মানববন্ধন করেছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
নারায়ণগঞ্জে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, ক্যামেরাপারসন ও সংবাদকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা অবিলম্বে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে কখনোই গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করা যাবে না। স্বাধীন সাংবাদিকতা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। গণমাধ্যমের ওপর আঘাত মানেই গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জনগণের জানার অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত।
বক্তারা আরও বলেন, বিগত সময়ে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সাহসী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। এসব পত্রিকা জনগণের পক্ষে কথা বলেছে বলেই বারবার বিভিন্ন মহলের রোষানলে পড়েছে। পতিত আওয়ামী লীগ সরকার প্রথম আলোকে সরকারি দপ্তরে নিষিদ্ধ করেছিল—যা ছিল স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ।
তারা অভিযোগ করেন, বর্তমানে একটি উগ্র গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর মতাদর্শ তৈরি করে গণমাধ্যমের কার্যালয়ে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালাচ্ছে। অথচ এসব গুরুতর অপরাধের পরও সরকার এখনো পর্যন্ত দোষীদের গ্রেপ্তার করতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। শুধু বিবৃতি দিয়ে দায় সেরে ফেলার প্রবণতা গ্রহণযোগ্য নয়।
বক্তারা বলেন, ‘চব্বিশের অভ্যুত্থান’ এ জন্য হয়নি যে সাংবাদিকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন বা গণমাধ্যম আক্রান্ত হবে। সেই অভ্যুত্থান হয়েছিল একটি সুন্দর, সুষ্ঠু, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশায়—যেখানে সবাই নির্ভয়ে মত প্রকাশ করতে পারবেন, স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারবেন এবং নিরাপদে কাজ করতে পারবেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত সাংবাদিকরা বলেন, আজ যদি গণমাধ্যমের ওপর হামলার বিচার না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এটি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। তাই অবিলম্বে হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ দাবিতে দেশের সকল সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন—
বাংলানিউজ টুয়েন্টিফোরের স্টাফ রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান পারভেজ, দৈনিক মানবজমিনের স্টাফ রিপোর্টার বিল্লাল হোসেন রবিন, দৈনিক সমকালের জেলা প্রতিনিধি শরিফউদ্দিন সবুজ, দৈনিক নয়া দিগন্তের ফতুল্লা প্রতিনিধি ও ফতুল্লা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মোহাম্মদ মাসুম, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম, বাংলাভিশন টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আফজাল হোসেন পন্টি, এশিয়ান টিভির জেলা প্রতিনিধি রোমান চৌধুরী সুমন, মাছরাঙা টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আনিসুর রহমান জুয়েল, নিউ এইজের জেলা প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম জীবন, চ্যানেল ২৪-এর জেলা প্রতিনিধি আহসান সাদিক শাওন, নাগরিক টিভির জেলা প্রতিনিধি কামাল হোসেন, প্রেস নারায়ণগঞ্জের সম্পাদক ফখরুল ইসলাম, দৈনিক দিনকালের জেলা প্রতিনিধি বাবুল, জাগো নিউজের সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি আকাশ, ফতুল্লা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুর রহিম, দেশ টিভির জেলা প্রতিনিধি বিল্লাল, নারায়ণগঞ্জের সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ শাওন, দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার জেলা ব্যুরো চিফ মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী, সদ্য সংবাদের জেলা প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ, খোলা কাগজের জেলা প্রতিনিধি নেয়ামত উল্লাহ, নিউজ টোয়েন্টিফোরের জেলা প্রতিনিধি শরীফ সুমন, এখন টিভি ও দৈনিক আমাদের সময়ের জেলা প্রতিনিধি ইমরান আলী সজিব, প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার মুজিবুল হক পলাশ, ডেইলি স্টারের জেলা প্রতিনিধি সৌরভ, এশিয়ান টিভির সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি মো. ফারুক হোসেন, মোহনা টিভির জেলা প্রতিনিধি আজমির, নিউজ ভিউ অনলাইন পোর্টালের চিফ রিপোর্টার সামিতুল হাসান নিরাক, ৭১ টিভির ক্যামেরাম্যান গোলাম রাব্বি, চ্যানেল ২৪-এর ক্যামেরাম্যান মিকাইল, সময় টিভির ক্যামেরাম্যান আরিফ, উজ্জীবিত বাংলাদেশের স্টাফ রিপোর্টার রাকিবুল হাসান, কালের কণ্ঠের নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি আব্দুল ওয়াহিদসহ জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীরা।