গাজীপুরের টঙ্গীতে ভূল চিকিৎসায় মা ও নবজাতকের মৃত্যু,টাকার বিনিময়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে পরিবারের আপোষ

খসরু মৃধা  :;

গাজীপুরের টঙ্গীতে ভূল চিকিৎসায় এক প্রসূতি ও তার নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।পরে গভীর রাতে পরিবারের সাথে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাড়ে তিন লাখ টাকায় আপোষ মিমাংসা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন স্টেশন রোড এলাকার নিউ লাইফ হাসপাতাল অ্যান্ড ট্রমা সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত প্রসূতির নাম তামান্না (২১)। তিনি গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানার বসুগাঁও মীরের বাজার এলাকার মো. সিদ্দিক মিয়ার মেয়ে এবং মো. রবিউল ইসলাম তুহিনের স্ত্রী।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ২০ মিনিটে সন্তান প্রসবের জন্য তামান্নাকে নিউ লাইফ হাসপাতাল অ্যান্ড ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়। পরে হাসপাতালের গাইনি এন্ড আবস বিভাগের সার্জন ডাঃফারহানা আক্তার এর তত্ত্বাবধানে তার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অপারেশনের সময় জরায়ু কেটে যাওয়ার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
অবস্থার অবনতি হলে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্সযোগে তামান্নাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য উত্তরার শিন শিন হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর নবজাতক কন্যাশিশুটিও নিউ লাইফ হাসপাতালেই মারা যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে ওই হাসপাতালের ডাঃফারহানা আক্তার এর ব্যক্তিগত মোবাইলে একাধিক বার ফোন দিলে ও তিনি তা রিসিভ করেননি।
এমন কি হাসপাতালে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

ঘটনার খবর পেয়ে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী পরিবারের ঘনিষ্ঠ এক সদস্য জানান,হাসপাতালটিতে অপারেশন করার জন্য নেই আধুনিক যন্ত্রপাতি।হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পরের স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সারারাত রফাদফা শেষে ভোর সাড়ে ছয়টায় পরিবারের সম্মতিতে মা ও নবজাতকের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়।

এ বিষয়ে গাজীপুর জেলার সিভিল সার্জন ডাঃমামুনুর রহমান জানান,বিষয়টি খোঁজ নিয়ে,তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও ভুক্তভোগীর পরিবার থেকে কেউ লিখিত অভিযোগ করলে তা আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।তিনি আরো জানান কিছুদিন পর পর অবৈধ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোড ও অভিযান পরিচালনা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *