নিজস্ব প্রতিবেদক:
বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করা শ্রমিকরা প্রায় তিন ঘণ্টা পর আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা ১টা ৫০ মিনিটের দিকে তাঁরা সড়ক থেকে সরে যান। তবে দীর্ঘ সময় অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকার এসেনশিয়াল কারখানাসহ কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় সড়কের ওপর কাঠ ও বাঁশে আগুন জ্বালিয়ে দেন তাঁরা।
একপর্যায়ে কোনাবাড়ী এলাকার তুষোকা গার্মেন্টস ও মৌচাক এলাকার সাদমা টেক্সটাইল লিমিটেডের শ্রমিকদের আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাতে গিয়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা কারখানা ভাঙচুর করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, মৌচাক এলাকায় আন্দোলন চলাকালে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির খানের সঙ্গে শ্রমিকদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা তাঁকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে তিনি আহত হন। এ সময় তাঁর ব্যবহৃত ব্যক্তিগত গাড়িটিও আটকে রাখেন শ্রমিকেরা। পরে পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার হয়ে তিনি হাসপাতালে যান।
এ ঘটনার পর পুলিশ কঠোর অবস্থান নিলে শ্রমিকেরা অবরোধ প্রত্যাহার করে সড়ক ছেড়ে চলে যান। এরপর ধীরে ধীরে যানবাহন চলাচল শুরু হলেও দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকায় মহাসড়কে যানজট রয়ে গেছে। বিশেষ করে কড্ডা থেকে কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকা পর্যন্ত যানবাহন চলাচলে তীব্র ধীরগতি দেখা দিয়েছে।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, শ্রমিকেরা সড়ক ছেড়ে চলে গেছেন। বর্তমানে কয়েকটি স্থানে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যানবাহন চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।