নিজস্ব প্রতিবেদক:
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন সংশোধনের পাশাপাশি প্রস্তাবিত সাইবার সিকিউরিটি আইনে নাগরিক অধিকার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, সংসদে এসব বিষয়ে সমাধান না হলে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে এর ফয়সালা করা হবে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এনসিপি আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের বিভিন্ন দিক নিয়ে সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, কাউকে গুম করা হলে ওই ঘটনায় যিনি গুমের সঙ্গে জড়িত, তাকেই তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। গুমের শিকার ব্যক্তির পরিবার তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে গেলে তাকে কথা বলতে বাধ্য করার কোনো ব্যবস্থা আইনে নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, গুমের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তদন্তকারী সংস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়গুলো যথাযথভাবে আইনে রাখা হয়নি। নাগরিকদের অধিকার রক্ষার কথা বলা হলেও আইনের মাধ্যমে তাদের অধিকার হরণের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘গুমের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তদন্তকারী সংস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়গুলো যথাযথভাবে আইনে রাখা হয়নি।’
প্রস্তাবিত সাইবার সিকিউরিটি আইন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োজন। তবে সেই আইনের প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি।
তার ভাষ্য, প্রস্তাবিত আইনে প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার বিষয়গুলো যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর গণতন্ত্রের নামে নতুন একটি স্বৈরাচারী কাঠামোর মধ্য দিয়ে আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। জনগণের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও সরকারের পক্ষ থেকে সেগুলো যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, নাগরিক অধিকার খর্ব বা হরণ হয়—এমন কোনো আইন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। গুমের আইন সংশোধন এবং সাইবার সিকিউরিটি আইন নাগরিকের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রণয়ন করার দাবি জানান তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সংসদে এসব বিষয়ে সমাধান না হলে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে এর ফয়সালা করা হবে।
র্যাবের পরিবর্তে নতুন বাহিনী গঠন নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক। তিনি র্যাবের বিরুদ্ধে গুম ও হত্যার অভিযোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, এসব অভিযোগের বিচার না করে একই ধরনের কাঠামো নতুন নামে সামনে আনা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘কত মানুষকে তারা গুম করেছে, খুন করেছে, কিন্তু বাংলাদেশে কোনো মানুষ বিচার খুঁজে পায় নাই। সরকার এই পুরোনো মদের বোতলকে নতুন মোড়কে এখন আমাদের কাছে নিয়ে এসেছে। আগে ছিল র্যাব, এখন হলো এসআরবি।’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দাবি, র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশের পরও নতুন নামে একই ধরনের কাঠামো রাখা হয়েছে। তিনি র্যাবের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর জন্য দায়ীদের আইনের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধনে এনসিপির নেতাকর্মীরা গুমের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা, নাগরিক অধিকার সুরক্ষা এবং প্রস্তাবিত সাইবার আইন পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।