Deprecated: Function WP_Dependencies->add_data() was called with an argument that is deprecated since version 6.9.0! IE conditional comments are ignored by all supported browsers. in /home/u102988081/domains/dailyswadhinsangbad.com/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260
গোপালগঞ্জ বিআরটিএ এডি হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ - দৈনিক স্বাধীন সংবাদ

গোপালগঞ্জ বিআরটিএ এডি হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) গোপালগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি এবং দালালচক্রকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। লাইসেন্স প্রদান, মোটরযানের ফিটনেস পরীক্ষা ও রুটপারমিট সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে নির্ধারিত সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, গোপালগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স, লাইসেন্স নবায়ন, মোটরযানের ফিটনেস এবং রুটপারমিটসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধের পরও অতিরিক্ত অর্থ না দিলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফাইল আটকে রাখা বা নানা অজুহাতে সেবা বিলম্বিত করার অভিযোগ রয়েছে।

একাধিক সেবাগ্রহীতার অভিযোগ, বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালের মাধ্যমে কাজ করালে অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত সেবা পাওয়া গেলেও সরাসরি সেবা নিতে গেলে নানা জটিলতার মুখে পড়তে হয়। অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন প্রক্রিয়া সহজ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

এক ভুক্তভোগী চালক অভিযোগ করে বলেন, গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষার জন্য বিআরটিএ কার্যালয়ে গেলে গাড়িতে বিভিন্ন ত্রুটি দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হয়। তবে অতিরিক্ত অর্থ দিলে একই ধরনের সমস্যার ক্ষেত্রে কাজ সহজ হয়ে যায় বলে তার দাবি।

ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন চালক। তাদের অভিযোগ, পরীক্ষা ও লাইসেন্স সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত অর্থের চাপ সৃষ্টি করা হয়। বিশেষ করে দক্ষ ও অভিজ্ঞ চালকরাও নানা কারণে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

পরিবহন মালিকদের অভিযোগ, রুটপারমিট সংক্রান্ত বিভিন্ন ফাইল অনুমোদনের ক্ষেত্রেও দীর্ঘসূত্রতা ও হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করার পরও ফাইল দীর্ঘদিন আটকে থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে সময় ও অর্থ—দুই দিক থেকেই ক্ষতির মুখে পড়ছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, অফিস সময়ের পরও কখনো কখনো বিআরটিএ কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবস্থান এবং বিভিন্ন ধরনের লেনদেনের বিষয়ে আলোচনা শোনা যায়। এমনকি রাত পর্যন্ত অফিসে অবস্থান করে অনিয়মের কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অভিযোগকারীদের দাবি, বিআরটিএর মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের শিকার না হন, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন। তারা গোপালগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ের কার্যক্রম তদন্ত করে অনিয়মের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের পক্ষ থেকে বিআরটিএর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে অভিযোগগুলো তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কার্যালয়ে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ, সেবাপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে গোপালগঞ্জ বিআরটিএ সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

[প্রথম পর্ব—অভিযোগের বিস্তারিত অনুসন্ধান ও তথ্য নিয়ে প্রতিবেদনটি চলমান]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *