গৌরীপুরে জহুরা বেগমের বিরুদ্ধে জমি নিয়ে হয়রানির অভিযোগ

মোশাররফ হোসেন জসিম পাঠান:

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মইলাকান্দা ইউনিয়নের ডেংগা গ্রামে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধকে কেন্দ্র করে মোছাঃ জহুরা বেগম নামের এক নারীর বিরুদ্ধে হয়রানি, দখলচেষ্টা ও এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, তার কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন গ্রামের নিরীহ মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডেংগা গ্রামের মৃত বশির উদ্দিনের মেয়ে জহুরা বেগম প্রায় ৪০ বছর আগে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে গ্রামের সম্পত্তি বিক্রি করে অন্যত্র চলে যান। এরপর দীর্ঘদিন ওই এলাকায় তাদের কোনো উপস্থিতি না থাকলেও হঠাৎ কয়েক বছর আগে তিনি পুনরায় এলাকায় এসে তার বাবার জমি রয়েছে দাবি করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে জমিতে যাতায়াত ও ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য চাপ প্রয়োগ শুরু করেন।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে প্রায় ১৫ বছর আগে একটি গ্রাম্য সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ওই সালিশে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সালিশ চলাকালে জহুরা বেগম তার দাবিকৃত জমির পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি। সে সময় তিনি ভবিষ্যতে আর ওই জমি নিয়ে কোনো দাবি করবেন না বলেও জানান বলে দাবি স্থানীয়দের।

তবে সালিশের কয়েক মাস পরই জহুরা বেগম গৌরীপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় একই গ্রামের মৃত সুমন আলী ওরফে শুভ বেপারীর ছেলে মোঃ রহিছ উদ্দিন (হুমায়ুন মাস্টার)সহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। দীর্ঘদিন বিচারিক প্রক্রিয়া চলার পর আদালত আসামিপক্ষের পক্ষে রায় দেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এরপর থেকেই প্রতিপক্ষকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও চাপ প্রয়োগের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি মাঝে মধ্যেই এলাকায় এসে জমি দখলের চেষ্টা করেন, গাছ বিক্রির উদ্যোগ নেন এবং নতুন করে বিরোধ সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালান। এতে এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে ঢাকা থেকে প্রকাশিত কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা সরেজমিনে তদন্তে গেলে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী তাদের কাছে অভিযোগের সত্যতা তুলে ধরেন। তারা জানান, “পূর্বেও তিনি আদালতে মামলা করেছিলেন, কিন্তু রায়ে জয়ী হতে পারেননি। এরপরও কিছু অসাধু মহলের প্ররোচনায় কয়েক বছর পরপর এলাকায় এসে নতুন করে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করেন।”

ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী দাবি করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে গ্রামের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছে। তারা এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপারসহ স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জহুরা বেগমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *