বরুড়া উপজেলা প্রেসক্লাবে গণতন্ত্রের আলো জ্বলল বিকেলের রোদে

মোঃ আনজার শাহ:

যাঁরা প্রতিদিন সত্যের আলো জ্বালান, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরেন, সমাজের দর্পণ হয়ে দাঁড়ান— সেই কলমযোদ্ধারাই আজ নিজেদের সংগঠনে গণতন্ত্রের এক অনন্য উৎসব পালন করলেন। ব্যালটের মাধ্যমে বেছে নিলেন নিজেদের বিশ্বস্ত নেতৃত্ব। শনিবার বিকেলে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা পরিষদ হলরুম পরিণত হয়েছিল এক প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক মিলনমেলায়, যেখানে প্রতিটি ভোট ছিল একটি বিশ্বাসের প্রকাশ, প্রতিটি করতালি ছিল একটি প্রত্যাশার ভাষা।

গত ৯ মে ২০২৬, শনিবার বিকেল ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় বরুড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন। ঘড়ির কাঁটা যখন বিকেল ৪টা স্পর্শ করে, তখন শেষ হয় ভোটগ্রহণ। মাত্র এক ঘণ্টার এই নির্বাচনী পর্বটি ছিল উত্তেজনা, আগ্রহ আর উদ্দীপনায় ভরপুর। এরপর উপস্থিত সদস্যদের সামনেই ঘোষণা করা হয় বহুল প্রতীক্ষিত ফলাফল।

যে মঞ্চে বসল গণতন্ত্রের আসর

বরুড়া উপজেলা পরিষদ হলরুম— সাধারণত প্রশাসনিক কাজে ব্যবহৃত এই কক্ষটি আজ সেজে উঠেছিল ভিন্ন সাজে। চারদিকে পরিচিত মুখের ভিড়, হাসি-কথা-আলোচনার হালকা গুঞ্জন আর নির্বাচনী উত্তেজনার এক অদ্ভুত মিশেল। সাংবাদিকরা, যাঁরা প্রতিদিন অন্যের নির্বাচন কভার করেন, আজ তাঁরাই হলেন নির্বাচনের কেন্দ্রীয় চরিত্র। ভোটার তালিকায় নাম আছে যাঁদের, একে একে তাঁরা এসে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে গেলেন শান্তিপূর্ণভাবে, আনন্দের সঙ্গে।

নিরপেক্ষতার প্রতীক নির্বাচন কমিশন

একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রাণ হলো নিরপেক্ষ পরিচালনা। সেই দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা।

নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাংবাদিক সলিল রঞ্জন বিশ্বাস ও মোঃ হারেছ। রিটার্নিং কর্মকর্তার গুরুত্বপূর্ণ আসনে ছিলেন এম এইচ সেলিম। তাঁদের সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ পরিচালনায় কোনো বিতর্ক ছাড়াই সম্পন্ন হয় পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া, যা উপস্থিত সকলের মধ্যে তৈরি করে আস্থা ও সন্তুষ্টির অনুভূতি।

উত্তেজনার এক ঘণ্টা, বিকেল ৩টা থেকে ৪টা

ঘড়িতে যখন বিকেল ৩টা বাজে, তখন থেকেই শুরু হয় ভোটগ্রহণ। লাইনে দাঁড়িয়ে একে একে ভোট দিতে আসেন সদস্যরা। কারও চোখে-মুখে স্পষ্ট উত্তেজনা, কারও ঠোঁটে চাপা হাসি। প্রিয় সহকর্মীকে ভোট দেওয়ার আনন্দ যেন অন্যরকম এক উষ্ণতা ছড়িয়ে দিয়েছিল পুরো হলরুমে। প্রতিটি ভোট পড়েছে সচেতনভাবে, স্বেচ্ছায়, নিজের বিবেকের নির্দেশে। বিকেল ঠিক ৪টায় সমাপ্ত হয় ভোটগ্রহণ পর্ব। এরপর শুরু হয় গণনা আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে উপস্থিত সকলের হৃদস্পন্দন।

ফলাফল ঘোষণা: নতুন ভোরের নতুন নেতৃত্ব

ভোটগণনা শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা এম এইচ সেলিম উপস্থিত সদস্যদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে হলরুমে ফেটে পড়ে করতালির ঝড়। অভিনন্দনের উষ্ণতায় ভরে যায় পুরো কক্ষ।

সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন জসিম উদ্দিন খোকন।

সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ সাইফুল ইসলাম।

সভাপতি নির্বাচিত জসিম উদ্দিন খোকন বরুড়ার সাংবাদিকতা অঙ্গনের একটি পরিচিত ও শ্রদ্ধেয় নাম। দীর্ঘ সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ এই মানুষটির নেতৃত্বে প্রেসক্লাব নতুন গতি পাবে বলে আশাবাদী সদস্যরা।

সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলামও স্থানীয় সাংবাদিক মহলে পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য মুখ। তাঁর কর্মনিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে রয়েছে উচ্চ প্রত্যাশা।

যাঁরা ছিলেন এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী

জসিম উদ্দিন খোকন, সলিল রঞ্জন বিশ্বাস, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ সাইফুল ইসলাম, ইকরামুল হক, রিয়াজ উদ্দিন রানা, বিল্লাল হোসেন খোকন, মোঃ হারেছ, ওমর ফারুক মোল্লা, জহির হোসেন, লিটন মজুমদার, আবুল কালাম, মোঃ মুহিবুল্লাহ ভূঁইয়া বাবুল, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অনলাইন বাংলাদেশ পাবলিক টিভি।

নতুন নেতৃত্বের কাঁধে যে প্রত্যাশার ভার

নির্বাচন শেষ হয়েছে, কিন্তু শুরু হয়েছে আসল দায়িত্বের পালা। নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে সদস্যদের প্রত্যাশা সুস্পষ্ট।

সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা, সত্য, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা, তরুণ ও উদীয়মান সাংবাদিকদের দক্ষতা বিকাশে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া, প্রেসক্লাবকে একটি শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও প্রভাবশালী সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং স্থানীয় সাংবাদিকতাকে জাতীয় পর্যায়ে মর্যাদার আসনে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করছেন সদস্যরা।

কলম থামে না, গণতন্ত্রও থামে না

সাংবাদিকরা কেবল সংবাদ পরিবেশন করেন না, তাঁরা সমাজের বিবেক, জাতির দর্পণ। বরুড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের আজকের এই নির্বাচন সেই বিবেকের জাগরণেরই প্রতীক। যে হাত প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে কলম ধরে, আজ সেই হাতেই উঠল গণতন্ত্রের পতাকা।

নবনির্বাচিত কমিটির প্রতি রইল উষ্ণ অভিনন্দন ও আন্তরিক শুভেচ্ছা। আশা করা যায়, তাঁদের নেতৃত্বে বরুড়ার সাংবাদিকতা পৌঁছাবে নতুন উচ্চতায়, জ্বলবে সত্যের আলো আরও উজ্জ্বলভাবে, আরও দৃঢ়ভাবে।

স্থানীয় সূত্র ও নির্বাচন কমিশন প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রণীত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *