গৌরীপুরে হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তার দাবি

স্টাফ রিপোর্টার:

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় মকবুল হোসেন হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে থানায় থানায় ও পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মামলার বাদী ও নিহতের পরিবার। অভিযোগ, মামলার চার নারী আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হলেও অন্য আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। তারা পলাতক থেকে বাদী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্বজনরা। এতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ অক্টোবর ২০২৬ সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের চরভাবখালী গ্রামের বাসিন্দা মকবুল হোসেন (৬০) তাঁর পৈতৃক সম্পত্তির ২৩ কাঠা জমিতে মাসকলাই বুনতে যান। এ সময় পূর্বশত্রুতার জের ধরে তাঁর গোষ্ঠীর চাচাতো ভাইয়েরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

হামলায় মকবুল হোসেন গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে হামলাকারীদের কবল থেকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় নিহত মকবুল হোসেনের স্ত্রী মোছা. সাজেদা খাতুন (৫৭) বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় একই গ্রামের মৃত আনামত আলীর ছেলে মো. বাবুল মিয়া (৪২), জাহাঙ্গীর, রাশিদ মিয়া, মো. আনোয়ার মিয়াসহ মোট ৯ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মামলার পর পুলিশ চার নারী আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। তবে অন্যান্য আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি বলে অভিযোগ বাদীপক্ষের। তাঁদের দাবি, পলাতক আসামিরা নিজেদের আত্মীয়স্বজনদের মাধ্যমে হত্যা মামলার বাদী সাজেদা খাতুন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।

এ অবস্থায় নিহতের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বলে জানিয়েছে। পরিবারের সদস্যদের আশঙ্কা, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে যেকোনো সময় আরও বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।

ভুক্তভোগী পরিবার, এলাকাবাসী ও সচেতন মহল এ ঘটনায় ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার এবং স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁদের দাবি, হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং বাদী ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *