চট্টগ্রামে পিকআপের গতিরোধ, ৫০ লাখ টাকার সিগারেট লুটের অভিযোগ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম নগরের লাভলেইন মোড়ে একটি পিকআপ ভ্যানের গতিরোধ করে প্রায় ৫০ লাখ টাকা মূল্যের সিগারেট লুটের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ সময় পিকআপের চালক ও হেলপারকে মারধর করে আহত করার অভিযোগও উঠেছে।

এ ঘটনায় ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে কোতোয়ালী থানায় মামলা করেছেন। ২০ সেপ্টেম্বর মামলাটি করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুর সোয়া ১টার দিকে নগরের কাজীর দেউড়ির এসএ পরিবহন থেকে প্রায় ৭৮ মাস্টার কেস সিগারেট নিয়ে একটি পিকআপ রিয়াজউদ্দিন বাজারের উদ্দেশে রওনা হয়। পিকআপে চালক মো. আনোয়ার হোসেন ও হেলপার মো. জাহিদ ছিলেন।

এজাহারে বলা হয়, দুপুর দেড়টার দিকে পিকআপটি লাভলেইন মোড়ের অ্যাপোলো-১১ পেট্রোল পাম্পের পূর্ব পাশে পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি গাড়িটির গতিরোধ করেন। এ সময় তারা চালকের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চালক ও হেলপারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

একপর্যায়ে চালক আনোয়ার হোসেনকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হয়। হেলপার জাহিদ বাধা দিতে এগিয়ে গেলে তাকে লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তার নাকে গুরুতর জখম হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে হামলাকারীরা পিকআপে থাকা প্রায় ৭৮ মাস্টার কেস সিগারেট নামিয়ে একটি অজ্ঞাতনামা গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, চালক ও হেলপারের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় মামলা করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আহত চালক ও হেলপারকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। লুট হওয়া সিগারেট ও ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

মামলায় আসামি করা হয়েছে মো. হৃদয়, শুক্কুর, নয়ন, ফরহাদ, শফি আলম, আদি ও আফসারকে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলার অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের কার্যক্রম চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *