স্টাফ রিপোর্টার:
বায়েজিদ বোস্তামী বাংলা বাজার এলাকায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) আগাম নোটিশ ছাড়াই বৈধ ভাড়া চুক্তিনামা থাকার পরেও কোনো ধরনের আইনি নোটিশ না দিয়ে জোরপূর্বক দোকান ও বাসা থেকে উচ্ছেদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মো. নুরুল আলম। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বায়েজিদ সাংবাদিক ফোরামের হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)-এর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলেন।
সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যে ভুক্তভোগী মো. নুরুল আলম জানান, বিগত ১৮/১০/২০১২ ইং তারিখে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)-এর পক্ষে প্রতিনিধিত্বকারী সচিবের সঙ্গে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত বায়েজিদ বোস্তামী সড়ক সংলগ্ন, বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন জালালাবাদ মৌজার আর.এস. দাগ নং-২৪৫৮ (অংশ)-এর অন্তর্ভুক্ত ৮.৯৯৬ কাঠা ভূমি আগামী ২৫ (পঁচিশ) বছর মেয়াদ পর্যন্ত একটি লিখিত ভাড়ার চুক্তিনামা সম্পাদিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী তিনি নিয়মিত ভাড়া ও আনুষঙ্গিক বিল পরিশোধ করে আসছিলেন।
কিন্তু চুক্তি ভঙ্গ করে কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং তারিখে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তার লোকজন ও পুলিশ প্রশাসন নিয়ে এসে পূর্বে কোনো আইনি নোটিশ না দিয়ে জোরপূর্বক তার দোকান ও বসতঘর উচ্ছেদ করেন।
ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, উচ্ছেদের সময় তার ব্যবসার মালামাল, ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে এবং অনেক মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। প্রচলিত দেশের আইন ও ভাড়াটিয়া সুরক্ষা আইন অমান্য করে এই অমানবিক উচ্ছেদ চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আরও বলেন, “চুক্তি বহাল থাকা অবস্থায় আইনগত কোনো নোটিশ ছাড়া এভাবে উচ্ছেদ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। আমি বর্তমানে পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং আর্থিক ও মানসিকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়েছি।”
এই অন্যায় ও বেআইনি উচ্ছেদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ভুক্তভোগী প্রধানমন্ত্রীর ও সিডিএর চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তার স্ত্রী নাজমা বেগম, ছেলে নুর হোসেন মেরাজ, মেয়ে মেহেরুনেচ্ছা মিম এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।