কামরুল ইসলাম:
চট্টগ্রাম নগরীতে গোপন বৈঠকের সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক সংগঠনের অঙ্গসংগঠনের ১৩ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। রোববার (৩ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর হালিশহরের নয়াবাজার বিশ্বরোড এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল ওই রেস্টুরেন্টে অভিযান চালায়। এ সময় ভেতরে একটি সংগঠিত বৈঠক চলছিল। উপস্থিতদের সন্দেহজনক কার্যক্রমের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের আটক করা হয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে রেস্টুরেন্টের ভেতর বৈঠক চলাকালে ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা নিষিদ্ধ একটি সংগঠনের অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত।”
তিনি আরও জানান, আটককৃতদের মধ্যে ‘শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদ’-এর কথিত প্রধান সংগঠকও রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তাদের পরিচয় ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা সংগঠিতভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় সক্রিয় করার পরিকল্পনা করছিলেন কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থল থেকে কিছু নথিপত্র ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে, যেগুলো বিশ্লেষণ করে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ ঘটনায় রেস্টুরেন্ট এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাতের ওই সময় রেস্টুরেন্টে একাধিক অচেনা ব্যক্তিকে একসঙ্গে অবস্থান করতে দেখা যায়, যা সন্দেহের সৃষ্টি করে।
এদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম ও নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।
ঘটনাটি নিয়ে চট্টগ্রাম নগরীতে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের যেকোনো ধরনের পুনর্গঠন বা গোপন কার্যক্রম কঠোরভাবে দমন করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, দেশের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার স্বার্থে এ ধরনের গোপন সভা বা সংগঠিত তৎপরতার ওপর নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।