চতুর্থ স্তর থেকে জার্মানির জাতীয় দলে, দেড় বছরে ইউনেসের অবিশ্বাস্য উত্থান

ক্রীড়া ডেস্ক :

মাত্র দেড় বছর আগেও জার্মান ফুটবলের চতুর্থ স্তর রিজিওনাললিগায় খেলছিলেন ইউনেস ইবনেতালিব। সেই সময় থেকে এখন জার্মান জাতীয় দলের দরজায়—মাত্র দেড় বছরের ব্যবধানে ২৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের উত্থান যেন রূপকথার গল্প। এরই মধ্যে চলতি বুন্দেসলিগায় ফ্রাইবুর্গের বিপক্ষে গোল করে নিজের উত্থানের গল্পে যোগ করেছেন আরও একটি অধ্যায়।

এর মাত্র দুই দিন আগে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সুখবরটি পান ইউনেস। প্রথমবারের মতো জার্মান জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন তিনি। অনেক প্রতিভাবান তরুণের ভিড়ে জার্মানির নতুন কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ তাঁর ওপর আস্থা রেখেছেন। জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার পর থেকেই জার্মান ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে কৌতূহল—কে এই ইউনেস ইবনেতালিব?

২০০৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে জন্ম ইউনেসের। তাঁর বাবা ফয়সাল ইবনেতালিব মরক্কোর নাদোরের বাসিন্দা। ১৯৯০ সালে ফয়সাল ফ্রাঙ্কফুর্টে চলে আসেন এবং পরবর্তী সময়ে জার্মানির নাগরিকত্ব নেন।

ফয়সাল নিজেও ছিলেন ক্রীড়াবিদ। ২০০০ সালের সিডনি অলিম্পিকে তায়কোয়ান্দোয় জার্মানির হয়ে রুপার পদক জিতেছিলেন তিনি। ইউনেসের মা জার্মান এবং একসময় হ্যান্ডবল খেলেছেন।

বাবার কাছ থেকেই ছোটবেলায় তায়কোয়ান্দোর সঙ্গে পরিচয় হয় ইউনেসের। তবে পরবর্তী সময়ে ফুটবলের প্রতি ঝুঁকে পড়েন এবং এটিকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন। নিজের অনুপ্রেরণা সম্পর্কে ইউনেস বলেছেন, তাঁর সবচেয়ে বড় আদর্শ ছিলেন বাবা ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বাবার কঠোর পরিশ্রমের অভ্যাসও তিনি অনুসরণ করেছেন।

ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরুটা অবশ্য খুব সহজ ছিল না ইউনেসের জন্য। ফ্রাঙ্কফুর্টের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে খেলার পর ইতালির পেরুজিয়াতেও ছিলেন তিনি। ২০২৪-২৫ মৌসুমে এফসি গিয়েসেনের হয়ে জার্মানির রিজিওনাললিগায় ১৯ ম্যাচে ছয় গোল করেন।

এরপর এসভি এলভার্সবার্গে গিয়ে দ্বিতীয় স্তরের ফুটবলে নিজেকে প্রমাণ করেন ইউনেস। ২০২৫ সালের শেষ দিকে ১৭ ম্যাচে ১২ গোল করে নজরে আসেন তিনি। তাঁর পারফরম্যান্সই তাঁকে দ্রুতই জার্মান ফুটবলের আলোচনায় নিয়ে আসে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে জন্মশহরের ক্লাব আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টে যোগ দেন ইউনেস। বুন্দেসলিগায় নিজের শুরুটাও করেছেন দুর্দান্তভাবে। চলতি মৌসুমে চার ম্যাচেই তাঁর গোলসংখ্যা চার, সঙ্গে রয়েছে দুটি অ্যাসিস্ট।

এরপর ফ্রাইবুর্গের বিপক্ষে ম্যাচেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন তিনি। ম্যাচের ১০ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ইউনেস। যদিও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়, তবে তাঁর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স আবারও আলোচনায় আসে।

ইউনেসের সামনে মরক্কো জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগও ছিল। ২০১৮ সালে মরক্কো অনূর্ধ্ব-১৫ দলের হয়ে খেলেছেন তিনি। তবে জাতীয় দলের ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত জার্মানিকেই বেছে নিয়েছেন এই ফরোয়ার্ড।

জার্মান জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এক ভক্ত ইউনেসকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, জাতীয় দলে ডাক পেয়ে কোন বিষয়টি নিয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি রোমাঞ্চিত। তাঁর সংক্ষিপ্ত উত্তর ছিল—‘সবকিছু নিয়ে।’

রিজিওনাললিগার চতুর্থ স্তর থেকে বুন্দেসলিগা হয়ে মাত্র দেড় বছরের ব্যবধানে জার্মান জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়া ইউনেস ইবনেতালিবের গল্প তাই জার্মান ফুটবলে দ্রুত উত্থানের এক উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *