Deprecated: Function WP_Dependencies->add_data() was called with an argument that is deprecated since version 6.9.0! IE conditional comments are ignored by all supported browsers. in /home/u102988081/domains/dailyswadhinsangbad.com/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260
চরম্বায় রাতের আঁধারে পাহাড়-টিলা গায়েব - দৈনিক স্বাধীন সংবাদ

চরম্বায় রাতের আঁধারে পাহাড়-টিলা গায়েব

কামরুল ইসলাম:

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নে রাতের আঁধারে অবাধে পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। এতে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাটি ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন ও ছৈয়দ মেম্বারের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জান মোহাম্মদ পাড়া এবং আশপাশের এলাকায় কয়েকটি পাহাড়ের বড় অংশ কেটে সমতল করে ফেলেছে। ইতোমধ্যে পাহাড়গুলোর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বিলীন হয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি ‘মাটিখেকো সিন্ডিকেট’ অবৈধভাবে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির সঙ্গে জড়িত। তবে প্রভাবশালীদের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।

সরেজমিনে দেখা যায়, জান মোহাম্মদ পাড়া এলাকায় সবুজে আচ্ছাদিত বিশাল আকৃতির কয়েকটি পাহাড়ের বড় অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে বর্তমানে কাজ কিছুটা বন্ধ থাকলেও এর আগে ব্যাপক হারে মাটি উত্তোলন করা হয়েছে। কাটা মাটি ট্রাকে করে বিভিন্ন ইটভাটা ও জমি ভরাটের কাজে বিক্রি করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

পাহাড় কাটার ফলে পার্শ্ববর্তী কয়েকটি বসতঘর ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, ভারী বর্ষণ হলে পাহাড়ধসের কারণে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এলাকার বাসিন্দা ফয়েজ আহমদের স্ত্রী আছিয়া খাতুন বলেন, “আমার বসতঘর পাহাড়ের পাশেই। পাহাড় কাটার কারণে এখন আমরা আতঙ্কে আছি। ভারী বৃষ্টি হলে ঘরবাড়ি ধসে যেতে পারে। রাতের আঁধারে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কেটে ডাম্পার ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন পাহাড় কাটার বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে বলেন, “এলাকার বাসিন্দা সোহেলের কাছ থেকে আমি কিছু মাটি কিনেছিলাম। একদিন মাটি কেটেছি। এরপর আর কাটিনি। বাকি মাটি অন্য কেউ কেটে থাকতে পারে।”

ঘটনাস্থলে গিয়ে সোহেলকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর চাচি আনোয়ারা বেগম বলেন, “পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বাড়ি নির্মাণের প্রয়োজন হয়েছে। এজন্য পাহাড়ের কিছু অংশ কাটা হয়েছে। এছাড়া কিছু জায়গা ভরাটের কাজও করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন বলেন, “পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়োজিদ-বিন-আখন্দ বলেন, “পাহাড় কাটার অভিযোগ সম্পর্কে জেনেছি। পাহাড় ধ্বংসের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে পরিবেশবাদী ও সচেতন মহল দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে পাহাড় কাটা বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *