মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন চাষাড়া এলাকায় শুভ চন্দ্র দাস (৩০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ হকার্স মার্কেটের পেছনে দুর্গামলের সামনে রাস্তা থেকে শুভ চন্দ্র দাসের গুলিবিদ্ধ ও চাকুর আঘাতে ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত শুভ গলাচিপা এলাকার শ্রী হরি চন্দ্র দাসের ছেলে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলাটি ৩০২/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়।
ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাসিনুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে তদন্ত চালিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, অনিক ও সুমন শুভকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেটের বিনিময়ে শুভর সহযোগী সোহানকে ব্যবহার করে তাকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনা হয়। পরে অনিক ও অহিদের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল শুভকে হত্যায় অংশ নেয়। এ সময় অনিক ও অহিদ শুভকে গুলি করে এবং অন্য সহযোগীরা চাকু দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন (৪৫), সিয়াম আহমেদ সিজান (২১) ও মো. সোহান (২৪)। তাদের নারায়ণগঞ্জ সদর ও আমলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযানে আসামিদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ব্যবহৃত অস্ত্র ও অন্যান্য আলামত উদ্ধারে অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।