চিকিৎসকের কথা বলে নির্জন কনটেইনারে, ছেলেকে হত্যার অভিযোগ বাবার বিরুদ্ধে

অনলাইন ডেস্ক:

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির কালিন্দি কুঞ্জ এলাকায় ৩৮ বছর বয়সী ছেলেকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার কথা বলে একটি পরিত্যক্ত কনটেইনারে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ৬৪ বছর বয়সী বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ।

নিহতের নাম গুল হাসান। গ্রেপ্তার দুজন হলেন তার বাবা তালুকদার আনসারি এবং আনসারির সহযোগী মোহাম্মদ ওয়াসিম ওরফে আকরাম। শুক্রবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ২৩ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টা ১৩ মিনিটের দিকে কালিন্দি কুঞ্জ এলাকায় ‘বাবলু কা কনটেইনার’ নামে পরিচিত একটি পরিত্যক্ত কনটেইনারের ভেতর অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহের মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায়। পরে সেখান থেকে রক্তমাখা একটি পাথর উদ্ধার করা হয়।

হত্যার রহস্য উদঘাটনে কালিন্দি কুঞ্জ থানার পুলিশ, স্পেশাল স্টাফ, নারকোটিকস টিম এবং অ্যান্টি অটো থেফট স্কোয়াডের সদস্যদের সমন্বয়ে চারটি দল গঠন করা হয়।

তদন্তের অংশ হিসেবে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ দেখতে পায়, গুল হাসান দুই ব্যক্তির সঙ্গে ওই পরিত্যক্ত কনটেইনারের দিকে গিয়েছিলেন। তবে এরপর তাকে আর সেখান থেকে বের হতে দেখা যায়নি। একাধিক ক্যামেরার ফুটেজ ধারাবাহিকভাবে বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন দুজনকে শনাক্ত করে পুলিশ।

পরে দিল্লির গোবিন্দপুরীর একটি পোশাক কারখানা থেকে তালুকদার আনসারি ও মোহাম্মদ ওয়াসিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা জানিয়েছেন, গুল হাসানকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ওই নির্জন স্থানে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে ওয়াসিম তাকে পাথর দিয়ে আঘাত করেন এবং তালুকদার আনসারিও তাকে মারধর করেন। পরে কাপড়ের বর্জ্য দিয়ে তৈরি একটি রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহটি কনটেইনারের ভেতরে রেখে তারা চলে যান।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, গুল হাসান সিজোফ্রেনিয়াসহ বিভিন্ন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে তার মানসিক সমস্যার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পেছনের বিস্তারিত তথ্য জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পাথর, রক্তমাখা পোশাক এবং শ্বাসরোধে ব্যবহৃত কাপড়ের রশি উদ্ধার করা হয়েছে। ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত তথ্যের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাক্রম যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি চূড়ান্ত চিকিৎসা প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *