জাপানের স্বপ্নের দরজা খুলছে বাংলাদেশের জন্য — ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণেই লুকিয়ে লাখো কর্মীর ভাগ্য বদলের চাবিকাঠি

মোঃ আনজার শাহ:

উদীয়মান সূর্যের দেশ জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে এবার কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। জাপানিজ ভাষা শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ইস্কাটনে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে “জাপানে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাপানিজ ভাষা ও স্কিল ট্রেনিং কার্যক্রম পরিচালনা এবং করণীয় নির্ধারণ” শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা দেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার গর্বিত কৃতি সন্তান ড. নেয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া। একজন মেধাবী সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর নেতৃত্বে এই সভা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক প্রশংসা হচ্ছে।

মন্ত্রীর বার্তা — শুধু পাঠালেই হবে না, দক্ষ করে পাঠাতে হবে
সভায় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, জাপানের শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য এক অসাধারণ সুযোগের দরজা। কিন্তু সেই দরজা পার হতে হলে চাই সঠিক ভাষাজ্ঞান আর হাতে-কলমে দক্ষতা। শুধু সংখ্যার দিক থেকে কর্মী পাঠালেই চলবে না, প্রতিটি কর্মীকে জাপানের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত ও যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে মান নিয়ন্ত্রণ ও কঠোর তদারকি নিশ্চিত না করলে দীর্ঘমেয়াদে এই শ্রমবাজার ধরে রাখা সম্ভব হবে না। মন্ত্রণালয়, রিক্রুটিং এজেন্সি এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান — সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রীর আশাবাদ — রেমিট্যান্সের নতুন দিগন্ত
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক। তিনি বলেন, জাপান যে ধরনের দক্ষ জনবল চায়, সেই অনুযায়ী যদি আমরা কর্মী তৈরি করতে পারি, তাহলে রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এক নতুন অধ্যায় রচনা করতে পারবে। জাপানের শ্রমবাজার আমাদের অর্থনীতির জন্য গেম চেঞ্জার হতে পারে।

সচিবের আহ্বান — জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে
সভাপতির বক্তব্যে সচিব ড. নেয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলেই শেষ নয়, সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে হলে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলকভাবে পরিচালিত হতে হবে। ভাষা শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং স্কিল ট্রেনিংকে বাস্তবমুখী ও আধুনিক করে তোলাই এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।

সভায় যাঁরা ছিলেন
সভায় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, জাপানে জনশক্তি প্রেরণকারী রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধি এবং জাপানিজ ভাষা ও স্কিল ট্রেনিং পরিচালনাকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জাপানে কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম যুগোপযোগী করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

পটভূমি
বর্তমানে জাপান বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শ্রম আমদানিকারক দেশ। বয়স্ক জনগোষ্ঠীর কারণে দেশটিতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক ভাষা প্রশিক্ষণ ও কারিগরি দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাপানের এই বিশাল শ্রমবাজার থেকে বহু কোটি টাকার রেমিট্যান্স অর্জন করতে সক্ষম হবে — যা দেশের লাখো পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *