জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি পুনর্জাগরণে এনসিপির মাসব্যাপী ‘জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক  ::

 জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি পুনর্জাগরণ, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং আন্দোলনের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী মাসব্যাপী ‘জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

সোমবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত আন্দোলন। শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব—সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, জুলাই মাসের প্রতিটি দিনই ছিল গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। ধাপে ধাপে আন্দোলনের মধ্য দিয়েই ৫ আগস্টের বিজয় অর্জিত হয়েছিল। সেই ইতিহাসকে পুনর্মঞ্চায়ন ও নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই প্রতিদিনের জন্য পৃথক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ১ জুলাই রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হবে। একই দিন ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলোর সংহতি সভা অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি ‘জুলাই থেকে জনপদ’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় বিচার ও গণভোট বাস্তবায়নের দাবিতে উপজেলা পর্যায়ে মাসব্যাপী পদযাত্রা শুরু হবে।

২ থেকে ৮ জুলাই দেশব্যাপী গ্রাফিতি, দেয়াল লিখন, ব্যানার ও ফেস্টুনের মাধ্যমে জুলাই জাগরণ কর্মসূচি চলবে। ৫ থেকে ৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে ‘জুলাই স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট’।

এ ছাড়া ১০ জুলাই লেখক ও বুদ্ধিজীবীদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা, ১৪ জুলাই ‘জুলাই নারী সমাবেশ’, ১৫ জুলাই কৃষক সমাবেশ এবং ১৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের কবর জিয়ারত, দেশব্যাপী দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হবে। ওই দিন রংপুরে শহীদ আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামে শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করা হবে। পাশাপাশি আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা হবে।

১৭ জুলাই ফ্যাসিবাদের বিচারের দাবিতে কফিন মিছিল, ১৮ জুলাই ‘প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্যান্স ডে’, ১৯ জুলাই ‘উত্তরার রক্তাক্ত জুলাই’, ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ি ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা এবং ২২ জুলাই চিকিৎসকদের অবদান নিয়ে ‘সাদা অ্যাপ্রনের সাহস ও জুলাইয়ের অদৃশ্য বীররা’ শীর্ষক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

২৩ জুলাই আহতদের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান, ২৪ জুলাই ‘জুলাই যুব কনভেনশন’ ও ‘অবরুদ্ধ সময়ের স্মৃতি ও কবিতা’, ২৫ জুলাই শ্রমিক সমাবেশ ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী, ২৬ জুলাই ‘সাদা পোশাকের জালিম’, ২৭ জুলাই ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশ’, ৩০ জুলাই ‘ফিরে দেখা জুলাই’ ও ‘হ্যাশট্যাগ থেকে গণঅভ্যুত্থান’ এবং ৩১ জুলাই শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

আগস্টের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১ আগস্ট ‘দেশপ্রেমের ইউনিফর্ম’ ও ‘সংবাদে গণঅভ্যুত্থান’, ২ আগস্ট ‘জুলাইয়ের গৃহযাত্রা’, ‘গণঅভ্যুত্থানের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ’ এবং ‘জুলাই স্মরণী প্রকাশ’, ৩ আগস্ট ‘জনতার এক দফা’, ৪ আগস্ট আহত ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ৫ আগস্ট বিজয় দিবস উপলক্ষে ‘বিজয়ের উল্লাস’ কর্মসূচি।

হাসনাত আব্দুল্লাহ জানান, পুরো কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ‘জুলাই পুনর্জাগরণ বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। তিনি কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করবেন এবং সদস্যসচিব হিসেবে থাকবেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ। প্রতিটি কর্মসূচির স্থান ও সময় সংশ্লিষ্ট উইং পর্যায়ক্রমে ঘোষণা করবে।

তিনি আরও জানান, দেশের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে ‘প্রবাসে জুলাই’ শীর্ষক কর্মসূচিও মাসব্যাপী চলবে। কমিটিতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা দায়িত্ব পালন করবেন এবং জুলাই পুনর্জাগরণ কর্মসূচি সফল করতে সারাদেশে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *