টঙ্গী পশ্চিম থানার হাজী মাজার বস্তিতে মাদক ব্যবসা: অভিযোগের আঙুল শাহাবুদ্দিন ও কিরণের দিকে, ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা

স্টাফ রিপোর্টার:

গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন হাজী মাজার বস্তি এলাকায় মাদক ব্যবসার বিস্তার নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এখানে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা চললেও মূল হোতা হিসেবে পরিচিত শাহাবুদ্দিন ও কিরণ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। ফলে দিন দিন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বলে দাবি তাদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাজী মাজার বস্তি এলাকায় ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্যের অবাধ বাণিজ্য চলছে। অভিযোগ রয়েছে, শাহাবুদ্দিন ও কিরণের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই ব্যবসা পরিচালনা করছে। তারা স্থানীয় কিছু সহযোগীর মাধ্যমে নিয়মিত মাদক সরবরাহ ও বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।

এলাকাবাসী জানান, দিনের বেলাতেও অনেক সময় প্রকাশ্যে ছোট ছোট প্যাকেটে মাদক বিক্রি করতে দেখা যায়। সন্ধ্যা নামলেই এই এলাকায় অচেনা মানুষের আনাগোনা বেড়ে যায়, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তরুণ ও কিশোরদের একটি অংশ এই নেশার জালে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যার ফলে সামাজিক অবক্ষয় দ্রুত বাড়ছে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা বহুবার প্রশাসনকে জানিয়েছি, কিন্তু বড় কোনো অভিযান হয়নি। যারা মূল ব্যবসা চালায় তারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। ছোটখাটো কিছু লোককে ধরে নিয়ে গেলেও মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে নিরাপদে।”

আরেকজন বাসিন্দা জানান, “এই মাদক ব্যবসার কারণে আমাদের সন্তানরা বিপথে যাচ্ছে। স্কুল-কলেজে যাওয়ার পরিবর্তে তারা নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে।”

এদিকে বিষয়টি নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “এ ধরনের কোনো অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করি। মাদক ব্যবসা বা মাদক সেবনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু আশ্বাস নয়, দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রয়োজন। তারা বলছেন, প্রতিনিয়ত অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর অভিযান না থাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

সামাজিক সচেতনতা কর্মীরা মনে করছেন, শুধু পুলিশি অভিযানই যথেষ্ট নয়, বরং স্থানীয় জনগণকে আরও সচেতন ও সংগঠিত হতে হবে। পাশাপাশি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মূল চক্রগুলোকে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শহরতলীর এই ধরনের বস্তি এলাকায় দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও সামাজিক অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে একটি শক্তিশালী মাদক চক্র গড়ে ওঠে। প্রথমে ছোট আকারে শুরু হলেও ধীরে ধীরে এটি একটি সংগঠিত অপরাধ নেটওয়ার্কে পরিণত হয়।

হাজী মাজার বস্তির বর্তমান পরিস্থিতি সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন অনেকে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এই এলাকা পুরোপুরি মাদক সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে শাহাবুদ্দিন, কিরণসহ পুরো চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এই মাদক ব্যবসার শেকড় উপড়ে ফেলা হোক। না হলে সামাজিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে তারা সতর্ক করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *