স্টাফ রিপোর্টার:
শুরুটা আজ থেকে ১৯ বছর পূর্বে। একটি মাত্র কম্পিউটার দিয়ে চালু করেছিলেন একটি ট্রেনিং সেন্টার। মনে বিশ্বাস ছিল যন্ত্রটি দিয়ে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজ তথা জাতির উন্নয়নে অবদান রাখবেন। নিরলস পরিশ্রম আর একান্ত চেষ্টায় বর্তমানে আড়াইহাজারের প্রাণকেন্দ্র দুবাই প্লাজার দ্বিতীয় তলায় গড়ে তুলেছেন যা বর্তমানে দুবাই প্লাজার ৪র্থ তলায় অবস্থিত। যা সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অত্যাধুনিক ও বড় পরিসরে বিশাল এরিয়া নিয়ে আইটি নির্ভর কর্মসংস্থান প্রতিষ্ঠান। যার মূলেই রয়েছেন একজন বীরত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। এই স্বপ্ন নির্ভর মানুষটার নাম মোঃ সামসুল হক। আর নিজ চেষ্টায় ও নিজের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানের নাম হক কম্পিউটার এন্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট।
প্রতি বছর ৫০০/৭০০ ছাত্র-ছাত্রী বিভিন্ন বিষয়ে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। যেসকল বেকার যুবক/ছাত্র-ছাত্রীরা সত্যিই চায় ভাগ্যের উন্নয়ন করতে বা নিজেদের পরিচয় তুলে ধরতে এবং জীবনে সফলতা অর্জন করতে, হক কম্পিউটার এন্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট সে সকল ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকেন। আর এই দক্ষ জনশক্তি ঝাঁপিয়ে পড়ছে আগামী সময়ের নেতৃত্ব দিতে। সময়োপযোগী বিভিন্ন ট্রেনিং প্রদান করে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সহায়তা করার লক্ষ্যে তাদের এই প্রচেষ্টা। তাই তিনি বিশ্বাস করেন, সুখী সমৃদ্ধ আড়াইহাজার তথা বাংলাদেশ গড়ার জন্য আইটি নির্ভর বিদ্যা এবং এর যথাযথ প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি।
এবং অত্র প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জনাব সামসুল হক স্যার “বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস এন্ড প্রেস সোসাইটি কর্তৃক আয়োজিত মানবাধিকার ও ত্রয়োদশ নির্বাচন ২০২৬ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিএইচআরপিএস গুণীজন সম্মাননা স্মারক শিক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য অর্জন করেন। এবং বাংলাদেশ যুব উন্নয়ন ফোরাম এর উদ্যোগে কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা মিলনায়তন, সেগুনবাগিচা, ঢাকায় আয়োজিত শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ইনউয়থ ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড-২০২৫ নৈতিক মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান হিসেবে অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষক জনাব নাজমুল হোসেন জয় অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।
এবং সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির প্রোগ্রামিং কন্টেস্টে কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন ও অসাধারণ দক্ষতা ও অধ্যবসায়ের স্বীকৃতিস্বরূপ অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষক জনাব জোবায়ের আহম্মেদ সার্টিফিকেট অব অ্যাচিভমেন্ট অর্জন করেন। আইটি বিদ্যা হলো প্রযুক্তি বিদ্যা। এই অসম্ভবকে সম্ভব করতে হলে বা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রথমেই আমাদের জানা দরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ কথাটি দিয়ে আমরা কি বুঝি। ডিজিট শব্দটির অর্থ সংখ্যা বা অঙ্ক। কম্পিউটারে ব্যবহারের জন্য সবকিছুকেই সংখ্যা বা অঙ্কে রূপান্তর করতে হয় বলে, ডিজিটাল শব্দটি আসলে কম্পিউটারে ব্যবহারের উপযোগী কিছু বোঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। তবে ডিজিটাল বাংলাদেশ কথাটি শুধু একটি কম্পিউটার প্রস্তুত দেশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়নি।
এটি আরও অনেক ব্যাপক। ডিজিটাল বাংলাদেশ বলতে আসলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে গড়ে তোলা আধুনিক বাংলাদেশ বোঝানো হয়। আর এই হক কম্পিউটার এন্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট-এর লক্ষ্যই হলো আইটি বিদ্যা বা প্রযুক্তি বিদ্যা ব্যবহার করে আড়াইহাজার তথা এই দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং দারিদ্র বিমোচনের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা। আর তাই এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা প্রভাষক মোঃ সামসুল হক মনে করেন, এই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য আমাদের পুরাতন মানসিকতার পরিবর্তন করেই ইতিবাচক বাস্তবতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তা করা খুব জরুরি। তাই নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি করেছেন এই প্রতিষ্ঠানটি। নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশ ও মানুষের উন্নয়নই তার নিরলস পরিশ্রম।
বিন্দু বিন্দু সঞ্চয় দিয়ে তৈরি করেছেন আজকের হক কম্পিউটার এন্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট যার দুটি শাখা অফিস রয়েছে। যা ২০১০ সালে ৬ই জুন বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন লাভ করে। আরেকটি শাখা হচ্ছে জাব্বার মার্কেট, উচিৎপুরা বাজারে যা উদ্বোধন করেন সরকারি সাফর আলী কলেজের প্রফেসর কালাম মাহমুদ (শিক্ষা প্রদীপ)। প্রতিদিন নিবিড় পর্যবেক্ষণ দ্বারা প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বেকার যুবক ও ছাত্র-ছাত্রীদের। যারা সত্যিকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ চায় তারা কাজ করেন নীরবে। তাদের মধ্যে একজন প্রভাষক মোঃ সামসুল হক। এমন মানুষের খোঁজ আমরা কজনেই বা জানি। বয়সে তরুণ বলেই হয়তো সাহস নেওয়ার ঝোঁকটা তার একটু বেশি। তাই অকপটে বলেন, অ্যানালগ চিন্তা বাদ দিতে হবে।
যদিও এখনই সরানোর পক্ষের তিনি নন। বরং বর্তমান সময়কে গ্রহণ করে জাতিকে প্রেরণা দিতে হবে। টেকনোলজিকে সহজে জীবনের সঙ্গে মিশতে দিতে হবে। তাহলে বাংলাদেশ ডিজিটালাইজড হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, হয়তো একদিন বিশাল দক্ষ আইটি নির্ভর শ্রম বাজার তৈরি হবে। তিনি আশাবাদী, এই দেশ তথা আড়াইহাজার থানার প্রতিটি স্তরের কলেজ-মাদ্রাসায় পৌঁছে দিবে আইটি সেবা। ইন্টারনেট এমন একটি নাম যা সারা পৃথিবীতে অভাবনীয় পরিবর্তন এনেছে এটাও যেমন সত্যি, একই সাথে এই প্রযুক্তিটি ব্যবহার করার জন্য আমাদের কিছু অবকাঠামো থাকতে হয় এটিও সত্যি। একমাত্র ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে সারা পৃথিবীটাকে হাতের মুঠোয় নিয়ে আসা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
তাইতো বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ‘সংকল্প’ কবিতার সেই লাইনটি মনে পড়ে—
“থাকবো না কেউ বদ্ধ ঘরে দেখবো এবার জগৎটাকে”
দেশের একটি বৃহত্তর বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি, কারিগরি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান যার মূল উদ্দেশ্য তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক গবেষণা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন করে দেশের সকল পর্যায়ে দারিদ্র বিমোচন করা। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৭ সালে স্থাপিত হয়ে সরকারি ও বেসরকারি সকল পর্যায়ে বিশেষ অবদান রাখায় জাগো বাংলাদেশ পঞ্চায়েত কল্যাণ পরিষদের পক্ষ থেকে নওয়াব ফয়জুননেসা স্বর্ণপদক লাভ করেন, ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা-২০১৪ এবং ২০১৫ শুভেচ্ছা স্মারক এবং মহান স্বাধীনতা সম্মাননা স্মারক ২০১৫ (কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ) লাভ করেন। যারা এই মহান সৃষ্টির শুরু থেকে সফলতা অর্জন পর্যন্ত তাকে সাহায্য ও সহযোগিতা করেছেন এবং আগামীতেও করবেন, জাতি প্রকৃতপক্ষে সেই সকল মহান ব্যক্তিগণকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। তিনি নিজে একজন স্বপ্ন নির্ভর মানুষ তাই তিনি মানুষের মাঝেও স্বপ্ন দেখতে পছন্দ করেন।
যেদিন ঘুম থেকে উঠে বাস্তবে দেখবেন যে, আমাদের দেশে অর্থাৎ বাংলাদেশের কোনো বেকারত্ব থাকবে না সেদিন তার সমস্ত চেষ্টা, পরিশ্রম ও স্বপ্ন স্বার্থক হবে বলে তিনি মনে করেন।
কাজেই প্রতিটি মানুষের উচিত এরকম জীবনাদর্শ অনুসরণ করা। কারণ এটি স্পষ্ট যে, বহু সংগ্রামের পর তিনি আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছেন। যার বীরত্ব অপরিসীম।
প্রতিষ্ঠানটির মিশনঃ
১। ইংলিশ স্পোকেন একাডেমি। ২। ইংলিশ মিডিয়াম/ভার্সন স্কুল এন্ড কলেজ। ৩। হক ইন্টারন্যাশনাল লাইব্রেরি এন্ড স্টেশনারি। ৪। ভুলতা শাখা অফিস উদ্বোধন। ৫। হক ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরিজম। ৬। বিএমটি কলেজ/ টেকনিক্যাল কলেজ/ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। ৭। চিটাগাং রোড শাখা অফিস উদ্বোধন। ৮। মাধবদী শাখা অফিস উদ্বোধন। ৯। রিয়েল এস্টেট কোম্পানি লিমিটেড। ১০। গ্রিন স্কলার্স এন্ড কলেজ।
আমার জানা মতে, ১০টি ইউনিয়ন এবং ২টি পৌরসভার মধ্যে কর্মরত আছে অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রী এবং জাতীয় পর্যায়ে পুলিশ, এসআই, প্রাইমারি স্কুল, বিভিন্ন ব্যাংক, উচ্চ বিদ্যালয় এবং কলেজ, এমনকি হক কম্পিউটার এন্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান স্যারের সহধর্মিণী অত্র প্রতিষ্ঠান থেকে আলিয়া মাদ্রাসায় কর্মরত আছেন। এছাড়া জাতীয় পর্যায়ে ভোটার তালিকা তৈরি এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করছে অত্র প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা। বিভিন্ন পত্রিকায় সাংবাদিকতায় জাতীয় পর্যায়ে সুযোগ পেয়ে কাজ করে যাচ্ছে এই কম্পিউটার ইনস্টিটিউট প্রশিক্ষণের মাধ্যমে।