স্টাফ রিপোর্টার:
ঘুষ বাণিজ্য ও অবৈধ সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ, তদন্ত দাবি গ্রাহকদের
ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) এনওসিএস জুরাইন কার্যালয়ের অফিস পিওন মোশাররফ হোসাইনকে (কর্মচারী নম্বর-২০৯৪৬) ঘিরে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দাপ্তরিক নিয়মে সীমিত দায়িত্বের মধ্যে থাকার কথা থাকলেও তিনি মিটার সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে একটি অবৈধ সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন গ্রাহক।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ ৮ থেকে ১০ বছর ধরে একই কার্যালয়ে কর্মরত থাকার সুবাদে দপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রমে তাঁর প্রভাব তৈরি হয়েছে। নিয়মিত বদলি বা দায়িত্ব পরিবর্তনের বিষয়টি তাঁর ক্ষেত্রে কার্যকর হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে তাঁর কর্মস্থলে থাকার মেয়াদ, দায়িত্বের পরিধি এবং বদলি নীতিমালা অনুসরণের বিষয়ে ডিপিডিসির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মোশাররফের জীবনযাপন ও সম্পদ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর বেতনের সঙ্গে তাঁর কথিত বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং গ্রামের এলাকায় নামে-বেনামে কয়েক বিঘা কৃষিজমি ও স্থাবর সম্পদের মালিক হওয়ার বিষয়টি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এসব সম্পদের বৈধ উৎস তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তবে তাঁর আয়, সম্পদ ও জমির মালিকানা-সংক্রান্ত অভিযোগের পক্ষে কোনো নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
জুরাইন ডিপিডিসি কার্যালয়ে নতুন মিটার সরবরাহ, অনুমোদন ও বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে নতুন মিটার সরবরাহ বা অনুমোদনের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে ২০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।
এ ছাড়া নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের ফাইল অনুমোদন বা পাস করানোর নামে দুই হাজার টাকা থেকে শুরু করে ক্ষেত্রবিশেষে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি ও আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের মিটারের লোড বৃদ্ধির আবেদনেও অতিরিক্ত টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ভবন নির্মাণসংক্রান্ত নিয়ম ও অনুমোদিত নকশা উপেক্ষা করে অর্থের বিনিময়ে সাব-মিটার ও ডাবল মিটার স্থাপনের সুযোগ করে দেওয়া। অভিযোগকারীদের দাবি, নকশাবহির্ভূত কিংবা অনুমোদনহীন ভবনেও অর্থের বিনিময়ে মিটার সংযোগের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের পাশাপাশি নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
এসব অভিযোগের বিষয়ে ডিপিডিসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় বিদ্যুৎ গ্রাহক ও ভুক্তভোগীরা। তাঁদের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জুরাইন কার্যালয়ের পিওন মোশাররফ হোসাইনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি ১৫০ টাকার জুতা পরি, দুই বেলা হোটেলে খাই, এক বেলা মেসে খাই। আপনারা নিউজ করবেন করেন, তাতে আমার কিছুই হবে না।”
তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ গ্রহণ, মিটার সংক্রান্ত অনিয়ম, সিন্ডিকেট পরিচালনা ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে ডিপিডিসির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং মোশাররফ হোসাইনের সম্পদ ও দাপ্তরিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।