মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর ও বন্দর উপজেলায় চলমান বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে (বিডিএস) কার্যক্রমকে সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় ভূমি জরিপে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ড্রোননির্ভর ডিজিটাল জরিপ এবং ভূমি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেটেলমেন্ট অফিস, ঢাকার চার্জ অফিসার ও সিনিয়র সহকারী সচিব মো. জাকির হোসেন। এছাড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম হোসেন, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য ভূমি ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ আধুনিক, নির্ভুল ও প্রযুক্তিনির্ভর করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে (বিডিএস) একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ড্রোনের মাধ্যমে জমির সঠিক পরিমাপ ও ডিজিটাল ম্যাপ প্রস্তুত করা সম্ভব হবে। এতে জরিপ কার্যক্রম দ্রুত, স্বচ্ছ ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করা যাবে এবং দীর্ঘদিনের ভূমি-সংক্রান্ত নানা জটিলতা অনেকাংশে দূর হবে।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে ধামরাই ও কুষ্টিয়া জেলায় ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সফলভাবে ডিজিটাল জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নারায়ণগঞ্জেও একই পদ্ধতিতে জমি জরিপ পরিচালনা করা হবে। আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে জেলার প্রতিটি ভূমিখণ্ডের সঠিক তথ্য সংরক্ষণ করা হবে, যা ভবিষ্যতে ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করবে।
জেলা প্রশাসক বিডিএস কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ড্রোন বা এয়ারক্রাফট পরিচালনায় সংশ্লিষ্টদের যথাযথ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে জরিপ কার্যক্রম আরও নির্ভুল ও সময়োপযোগী হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিপ কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন।
সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে, জমি সংক্রান্ত বিরোধ কমবে এবং নাগরিকরা দ্রুত ও সহজে ভূমি-সংক্রান্ত সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। পাশাপাশি ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে ভূমির মালিকানা নির্ধারণ, রেকর্ড সংশোধন ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সহজ ও কার্যকর হবে।
সভার শেষে বিডিএস কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, সেটেলমেন্ট বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই জরিপ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জে ভূমি ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্তের সূচনা হবে এবং জনগণ আরও স্বচ্ছ, নির্ভুল ও হয়রানিমুক্ত সেবা পাবেন।