বাবলু শেখ:
১৯ জুন, শুক্রবার রাজধানী ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবন-সংলগ্ন শহীদ ফারহান ফাইয়াজ প্রতিবন্ধীদের খেলার মাঠে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বসবাসরত প্রতিবন্ধী নারী-পুরুষের প্রায় ১,৫০০ জন মানুষ সকাল ১০টা থেকে প্রতিবন্ধী মানুষের আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন।
সারাদিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে ঢাকার বিভিন্ন প্রতিবন্ধী সংগঠন একত্রিত হয়ে ‘প্রতিবন্ধী মানুষের আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী-২০২৬’ নামকরণের মধ্য দিয়ে একটি ব্যানারের মাধ্যমে আয়োজনটির সমন্বয়কারী হিসেবে ভূমিকা রাখেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ইফতেখার মাহমুদ।
ঈদ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বি-স্ক্যানে কর্মরত বাপ্পি সরকার এবং সদস্য সচিব ছিলেন জাগরণ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি সোহেল রানা।
মহতি এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব এমপি। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, দেশের এই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ এই সরকারের বিশেষ নজর রয়েছে। আজকের এই অনুষ্ঠান থেকে প্রিয় প্রতিবন্ধী ভাই-বোন ও সংগঠনের সঙ্গে তার যাত্রা শুরু হলো এবং তিনি ভবিষ্যতে এই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য যা যা করা দরকার, তার সবকিছুই করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সবার কাছ থেকে বিদায় নেন।
ঈদ পুনর্মিলনীর এই অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে আরও আমন্ত্রিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম. এ. মুহিত এমপি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এমপি এবং নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান এমপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ ঝিটকা শরীফের পীর, ‘আমি’র খোঁজে ফাউন্ডেশন’ ও দ্য কনসোর্টিয়াম-এর চেয়ারম্যান তালেবে হক শাহ সুফী হযরত মাওলানা ডা. হারুন অর রশীদ এবং বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক মনোয়ার হাসান জীবন।
পীর সাহেব তার বক্তব্য শেষে উপস্থিত সকল প্রতিবন্ধীকে নিয়ে আল্লাহর দরবারে মোনাজাত পরিচালনা করেন।
বেলা সাড়ে ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত জুমার নামাজের বিরতি দিয়ে শুরু হয় মধ্যাহ্নভোজ। এর মধ্যে একাংশ দুই দলে ভাগ হয়ে ফুটবল খেলায় মেতে ওঠেন।
জাগরণ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থা ও অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা সাংবাদিক সুমন চৌধুরী এবং প্রতিবন্ধী নারী কাজলের যৌথ সঞ্চালনায় শুরু হয় প্রতিবন্ধীদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
প্রথমে প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণে গান ও কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মঞ্চে আসেন কণ্ঠশিল্পী ইকবাল হোসেন রানা এবং সর্বশেষ মঞ্চে পরিবেশন করেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী এফ. এ. সুমন। জনপ্রিয় এই দুই শিল্পীকে কাছে পেয়ে উপস্থিত সবাই টানা দুই ঘণ্টা গান ও নাচের মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেন।
পরিশেষে জাগরণ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থার উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষক রিয়াজুর রহমান তামিমের সৌজন্যে র্যাফেল ড্রের আয়োজন করা হয়। এতে প্রথমে বেলুন উড়িয়ে আনন্দ উদযাপন করা হয়। পরে লটারির মাধ্যমে প্রথম পুরস্কার হিসেবে ৩২ ইঞ্চি স্মার্ট টেলিভিশন ওঠান কণ্ঠশিল্পী এফ. এ. সুমন।
উক্ত আয়োজনে আরও ভূমিকা রাখেন মিজানুর রহমান, হানিফ, কাশেম, মাঈন উদ্দিন, বাবলু শেখ, নিজামুদ্দিনসহ আরও অনেকে।
পরিশেষে মুহুর্মুহু করতালির মাধ্যমে মাগরিবের আজানের সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন সমন্বয়কারী ইফতেখার মাহমুদ।