তাইপের গে বারে পুলিশের অভিযান, আটক ৫১; প্রতিবাদে এলজিবিটিকিউ+ কর্মীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেতে একটি গে বারে পুলিশের অভিযানের প্রতিবাদে রোববার বিক্ষোভ করেছেন এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়ের প্রায় ১০০ সদস্য। শনিবার ওয়ানহুয়া এলাকার ‘কমান্ডার ডি’ নামের ওই বারে অভিযান চালিয়ে ৫১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। একই ঘটনায় বারের মালিককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় পুলিশের দাবি, ‘জনসমক্ষে নৈতিকতা ভঙ্গের’ অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতের তল্লাশি পরোয়ানা নিয়ে ওই বারে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের মুখপাত্র চেন ইউ-চেন জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণের অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা এমন স্থানে নগ্ন শরীর প্রদর্শন করছিলেন, যেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার রয়েছে।

তবে পুলিশের অভিযানের ধরন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়ের সদস্যরা। রোববার তারা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করে সংশ্লিষ্ট পুলিশ স্টেশনের সামনে অবস্থান নেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন।

আটক ব্যক্তিদের একজন ‘ওয়েন’ রয়টার্সকে বলেন, বারে পুলিশ খুবই কঠোরভাবে অভিযান চালিয়েছে। পুরো ঘটনাটি তাদের কাছে ভীতিকর ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিক্ষোভের সময় পুলিশ ফাঁড়ির প্রধান আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, পুলিশ বহুমাত্রিক সমাজের সংস্কৃতিকে সম্মান করে এবং প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার রক্ষায় কাজ করবে। তবে তার বক্তব্যে বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ কমেনি।

বিক্ষোভকারী কাং ইয়াং বলেন, তাইওয়ান দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে সমকামীবান্ধব সমাজ হিসেবে তুলে ধরেছে। এমন পরিস্থিতিতে এ ধরনের অভিযান তিনি মেনে নিতে পারছেন না।

তাইওয়ান এশিয়ার অন্যতম উদার ও এলজিবিটিকিউ+ অধিকারসমর্থক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ২০১৯ সালে দেশটিতে সমকামী বিয়ে বৈধ করা হয়, যা এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে তাইওয়ানের স্বীকৃতি এনে দেয়। চলতি মাসের শেষ দিকে তাইপেতে বার্ষিক প্রাইড র‍্যালি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ আয়োজন।

তাইপে নগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই বারে অশালীন কর্মকাণ্ড হচ্ছে—এমন অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালায়। নগরটির মেয়র চিয়াং ওয়ান-আন বিরোধী দল কুওমিনতাংয়ের নেতা। তিনি এর আগে তাইপে প্রাইড আয়োজনে অংশ নিয়ে এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়ের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন।

তাইওয়ানে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত সামরিক শাসন ছিল। সে সময় সমকামী সম্পর্ককে সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ বিষয় হিসেবে দেখা হতো। পরবর্তী সময়ে দেশটিতে যৌন সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে সামাজিক ও আইনগত ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *