মোঃআনজার শাহ
কুমিল্লার মানুষ যুগের পর যুগ যে স্বপ্ন বুকে লালন করেছেন একটি স্বতন্ত্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের স্বপ্ন সেই স্বপ্ন আজ পূর্ণতা পেল নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে। নবগঠিত কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কুউক)-এর প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ পেলেন কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু। ১১ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গেজেট প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। কুমিল্লাজুড়ে শুরু হয়েছে আনন্দের জোয়ার।
স্বপ্ন থেকে বাস্তব, কুউকের জন্মকথা,কুমিল্লা বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা। বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু এই নগরী। অথচ দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য কোনো স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষ ছিল না। এই অভাব পূরণ করতে চলতি বছরের এপ্রিলে জাতীয় সংসদে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬ পাস হয়। এরপর গত ২১ মে সরকার আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করে। আর মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে আজ নিয়োগ পেলেন এই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানের প্রথম চেয়ারম্যান।
প্রজ্ঞাপনে যা বলা হয়েছে,জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬-এর ধারা ৮(১) অনুযায়ী জনাব উদবাতুল বারী আবুকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছর মেয়াদে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (গ্রেড-২) পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলো। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি হওয়া এই প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়োগসংক্রান্ত অন্যান্য সুবিধা, দায়িত্ব ও শর্তাবলি পৃথক চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া প্রতিক্রিয়া,নিয়োগের খবর পেয়ে আবেগে ভেসে যান উদবাতুল বারী আবু। কুমিল্লার মানুষের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন,
“প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে বিশ্বাস করে এই গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছেন। এই বিশ্বাস আমার কাছে সবচেয়ে বড় সম্মান। কুমিল্লার প্রতিটি মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে, এই নগরীকে আধুনিক ও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে আমি আমার সর্বোচ্চ শ্রম ও মেধা ঢেলে দেব। কুমিল্লার উন্নয়নে সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করব।”
একই দিনে ৯ কর্তৃপক্ষে নতুন নেতৃত্ব,কুমিল্লার পাশাপাশি একই দিনে সারা দেশের ৯টি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পৃথক পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নিয়োগগুলো আনুষ্ঠানিক করেছে। নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানরা হলেন,
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে এস এম শফিকুর আলম, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে মো. আবুল কালাম আজাদ, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে রেজাউল হাসান লোদী, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে মো. সামসুজ্জামান সামু, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে মোতাহার হোসেন তালুকদার এবং নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে মাশুকুল ইসলাম রাজিব।
সকল নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান এক বছরের চুক্তিভিত্তিক মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবেন এবং দায়িত্ব গ্রহণের আগে অন্য সব কর্মসম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে।
কুমিল্লাজুড়ে উৎসবের আমেজ,নিয়োগের সংবাদ মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে কুমিল্লার আনাচে-কানাচে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজপথ সর্বত্র আনন্দের জোয়ার বইতে থাকে। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানকে ফুলেল শুভেচ্ছায় অভিনন্দিত করে। জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদপ্তর সচিব আনজার শাহ বিশেষভাবে তাঁকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেছে।
প্রত্যাশার পাহাড়, সম্ভাবনার দিগন্ত,
কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সামনে এখন বিশাল কাজের পাহাড়। নগর পরিকল্পনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, যানজট নিরসন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, আবাসন সংকট সমাধান, শিল্প ও বাণিজ্য এলাকার সুষম বিন্যাস এই সবকিছু নিয়ে কাজ করতে হবে নতুন চেয়ারম্যানকে।
কুমিল্লার সচেতন নাগরিক সমাজ বলছে, এই নিয়োগ যেন শুধু কাগজে-কলমে না থাকে। দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করলেই কেবল কুউক হয়ে উঠতে পারবে কুমিল্লার মানুষের সত্যিকারের আশার প্রতিষ্ঠান।
কুমিল্লার আকাশে আজ নতুন পতাকা উড়েছে। উদবাতুল বারী আবুর হাত ধরে সেই পতাকা যেন পৌঁছে যায় উন্নয়নের সর্বোচ্চ শিখরে এটাই এখন কুমিল্লার কোটি মানুষের একটাই প্রার্থনা।