তুরস্কে কপ-৩১ সম্মেলনে প্রদর্শিত হবে বাংলাদেশের পাটপণ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পাট ও পাটজাত পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরতে তুরস্কে প্রদর্শনীর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১-এ বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যের বিশেষ প্রদর্শনী আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসেবে পাটের ব্যবহার বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের পাটশিল্পের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তুলে ধরার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পাটজাত পণ্য প্রদর্শনের বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। সম্মেলনস্থলে বাংলাদেশের প্যাভিলিয়নে পাটের তৈরি বিভিন্ন পণ্য, সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ও এসব পণ্যের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে, তুরস্কে পাটপণ্যের প্রদর্শনীর একটি ডিসপ্লে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্থাপন করা হয়েছে।

প্রদর্শনীতে পাটের তৈরি ব্যাগ, ঘর সাজানোর সামগ্রী ও হস্তশিল্পসহ বহুমুখী পণ্য আন্তর্জাতিক ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশ্বজুড়ে পরিবেশদূষণ কমানো এবং প্লাস্টিকের বিকল্প ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ায় পাটজাত পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। পাট প্রাকৃতিক, নবায়নযোগ্য ও জীবাণুবিয়োজ্য আঁশ হওয়ায় পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও ভোগের ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।

গত ১৫ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কপ-৩১-এর প্রস্তুতি নিয়ে জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাংলাদেশের পাটশিল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বৈঠকে প্লাস্টিকের পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে পাটকে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এর আগে গত ২১ জুলাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে পাট খাতের রপ্তানি সম্প্রসারণ নিয়ে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পাটপণ্যের পরিচিতি বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক কূটনীতিকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের পাটশিল্পের বহুমুখী ব্যবহার, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির মাধ্যমে দেশের ঐতিহ্যবাহী ‘সোনালি আঁশ’ খাতকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুনভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *