নিজস্ব প্রতিনিধি: অর্থ পাচার বা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগটির কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংস্থার অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিভাগটিতে ৫২৯টি মানি লন্ডারিং-সংক্রান্ত অনুসন্ধান চলমান থাকলেও গত এক বছরে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৭৫টি। সে হিসেবে অগ্রগতির হার প্রায় ১৪ শতাংশ।
দুদক-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিগত সরকারের সময়ে দেশ থেকে অর্থ পাচারের নানা অভিযোগের অনুসন্ধানের দায়িত্ব এই বিভাগের ওপর বর্তায়। এর মধ্যে বিদেশে সম্পদ ক্রয়, করপোরেট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়ম এবং বড় অঙ্কের অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে। তবে সরকার পরিবর্তনের পরও এসব অনুসন্ধানে প্রত্যাশিত গতি আসেনি বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।
এদিকে, বিভাগটির মহাপরিচালক (ডিজি) মোকাম্মেল হকের ভূমিকা নিয়েও কমিশনের ভেতরে নানা আলোচনা রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা। তিনি ২০২৩ সালের ২১ মার্চ প্রেষণে দুদকের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং এরপর থেকে একই দায়িত্বে রয়েছেন।
২০২৩ সালে তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) গৌতম ভট্টাচার্য ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। তবে ওই ঘটনার পরও মহাপরিচালক হিসেবে মোকাম্মেল হক দায়িত্বে বহাল থাকেন। এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
দুদকের সাবেক মহাপরিচালক মঈদুল ইসলাম বলেন, বর্তমান বিশ্বে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তার ভাষ্য, বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও অর্থ পাচারের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বিভাগের কাজের অগ্রগতির হার সন্তোষজনক নয়।
তিনি আরও বলেন, মানি লন্ডারিং-সংক্রান্ত তদন্ত অত্যন্ত বিশেষায়িত ও জটিল। এ ধরনের অনুসন্ধানে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন রয়েছে। এক বছরে মাত্র ১৪ শতাংশ অগ্রগতি উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংশ্লিষ্টদের একটি অংশের মতে, মানি লন্ডারিং-সংক্রান্ত অনুসন্ধানগুলো দ্রুত ও কার্যকরভাবে শেষ করতে বিভাগে দক্ষ, অভিজ্ঞ এবং বিশেষায়িত কর্মকর্তাদের পদায়ন জরুরি। তাদের মতে, অর্থ পাচারের অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগ জোরদার না হলে এ খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন কঠিন হবে।