দেশব্যাপী সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজবিরোধী বিশেষ অভিযান শিগগিরই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মোহাম্মদ হোসেন সুমন:

খুব শিগগিরই দেশব্যাপী সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, অভিযানের সূচনা হবে রাজধানী ঢাকা থেকে।

আজ দুপুরে রাজধানীর রমনায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, সভায় দুটি বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, চাঁদাবাজদের একটি পূর্ণাঙ্গ ও হালনাগাদ তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, দাগি আসামি ও সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের স্বচ্ছ তালিকা প্রণয়ন করে তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা এবং দেশে স্থিতিশীল শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। তিনি বলেন, “আমরা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এ ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি উল্লেখ করেন, বিগত সময়ে একটি ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার কারণে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশ বাহিনীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই অবস্থা থেকে পুলিশকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে জনগণের আস্থার প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। “মানুষ যেন পুলিশকে প্রকৃত অর্থে জনগণের বন্ধু হিসেবে দেখতে পারে—সেই লক্ষ্যেই আমরা পুলিশ বাহিনীকে পরিচালিত করছি,” বলেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, পুলিশ কোনো ব্যক্তির স্বৈরতান্ত্রিক নির্দেশে নয়, বরং সম্পূর্ণভাবে আইনানুগভাবে পরিচালিত হবে। জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বাহিনীকে পরিচালনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তারা এ বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীতে ‘চেইন অব কমান্ড’ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। কোনো ওসি সরাসরি মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না। তবে প্রয়োজনে মন্ত্রী যেকোনো স্তরের কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। নিম্নপদস্থ কেউ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে এড়িয়ে যোগাযোগ করতে পারবেন না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

যানজট নিরসনে বিশেষ সেল

ঢাকার যানজট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ সমস্যা নিরসনে ডিএমপি কমিশনারকে একটি বিশেষ সেল বা কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে করণীয় নির্ধারণ ও সুপারিশমালা প্রণয়ন করে একটি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। প্রধান ও ভিআইপি সড়কে যেখানে এসব রিকশা চলাচলের কথা নয়, সেখানেও চলাচল করছে। এ বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষামূলকভাবে উত্তরা এয়ারপোর্ট রোড থেকে সচিবালয় পর্যন্ত সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণ করা হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও এ ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।

ব্রিফিংয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির এবং ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *