ধানের শীষ হাতে নীরব শ্রদ্ধা, প্রধানমন্ত্রীর নজরে সাধারণ নিরাপত্তা গার্ড, পাঠালেন উপহার

মোঃআনজার শাহ

রাজধানীর ব্যস্ত সড়কের পাশে একটি ব্যাংকের এটিএম বুথে প্রতিদিনের মতো দায়িত্ব পালন করেন সাধারণ নিরাপত্তা গার্ড আব্দুস সালাম। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাঁর আরেকটি অভ্যাস ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহর যেদিন ওই পথ দিয়ে যায়, তিনি হাতে ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান। দীর্ঘদিনের এই নীরব শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি এড়ায়নি। তিনি আব্দুস সালামের জন্য উপহার পাঠিয়েছেন।
আজ বুধবার সকালে রাজধানীর রমনায় গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন আব্দুস সালামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কিছু উপহার তাঁর হাতে তুলে দেন। এ সময় তিনি আব্দুস সালামের শারীরিক অবস্থা ও পরিবারের খোঁজখবরও নেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ)।
স্ট্রোকের পর স্টিয়ারিং ছেড়ে নিরাপত্তা গার্ডের দায়িত্বে
পাবনার নগরবাড়ি ঘাট এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম গত আট মাস ধরে রাজধানীর সাবেক রমনা থানার সামনে একটি বেসরকারি ব্যাংকের বুথে নিরাপত্তা গার্ডের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি গাড়ি চালাতেন, কিন্তু স্ট্রোক করার পর আর গাড়ি চালাতে পারেননি। ফলে স্টিয়ারিং ছেড়ে তিনি নিরাপত্তা গার্ডের কাজ বেছে নেন। অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি প্রতিদিন বিরতিহীনভাবে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত—টানা ১২ ঘণ্টা—দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
সুজন মাহমুদ জানান, প্রধানমন্ত্রী যখন সচিবালয়ের উদ্দেশে যাওয়ার পথে থাকেন, প্রতিদিন আব্দুস সালাম রমনা পুরনো থানার কাছে বুথের সামনে ধানের শীষ হাতে দাঁড়িয়ে থাকেন। তাঁর এই নীরব শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা প্রধানমন্ত্রীর নজর এড়ায়নি। বিষয়টি জানার পর তিনি আব্দুস সালামের খোঁজখবর নিতে এবং উপহার পাঠাতে অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনকে নির্দেশ দেন।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে আব্দুস সালাম আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।
“আজ আমার জীবনের সেরা দিন”
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আব্দুস সালাম বলেন, “কখনো কল্পনাও করিনি এটি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করবে, আর প্রধানমন্ত্রী আমার জন্য উপহার পাঠাবেন।”
তিনি বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাবাকে ভালোবাসি, মাকে ভালোবাসি, প্রধানমন্ত্রীকেও ভালোবাসি। তিনি যখন এই পথে যান, আমি প্রতিদিন তাঁকে সালাম দিই। তিনিও গাড়ির ভেতর থেকে প্রতিদিন হাসিমুখে সালামের জবাব দেন, হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। তাঁর হাসি দেখলে আমার মন জুড়িয়ে যায়। আজ আমার জীবনের সেরা দিন, সবচেয়ে আনন্দের দিন। প্রধানমন্ত্রী আমার মতো ক্ষুদ্র একজন মানুষকে উপহার পাঠিয়েছেন এর চেয়ে বেশি আনন্দের আর কী হতে পারে।”
স্থানীয়দের প্রশংসা
একজন সাধারণ মানুষের নীরব ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক সাড়া স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। তাঁরা বলছেন, দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একজন সাধারণ মানুষের আন্তরিক অনুভূতির এমন মূল্যায়ন নিঃসন্দেহে একটি ব্যতিক্রমী মানবিক দৃষ্টান্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *